নগরের নামী রেস্তোরাঁগুলোর চোখধাঁধানো সাজগোজ আর লোভনীয় খাবারের বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হন না, এমন ভোজনরসিক খুঁজে পাওয়া ভার।
কিন্তু এই চকচকে আবরণের পেছনে রান্নাঘরের ভেতরের রূপটি আসলে কতটা স্বাস্থ্যকর?
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরের এমনই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল চট্টগ্রাম নগরের পূর্ব নাসিরাবাদের ঐতিহ্যবাহী ‘সাদিয়াস কিচেন’।
আভিজাত্যের মোড়কে ঢাকা এই রেস্তোরাঁটির মূল রান্নাঘরে (সেন্ট্রাল কিচেন) অভিযান চালিয়ে যেন এক ‘ভুতুড়ে’ পরিবেশের দেখা পেলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মানবস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ নোংরা পরিবেশ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিক ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিফাত বিনতে আরা।
রান্নাঘরে পা রাখতেই একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে গা শিউরে ওঠার মতো সব তথ্য। আভিজাত্যের আড়ালে সেখানে যা চলছিল, তা দেখে খোদ অভিযোকারী দলও বিস্মিত না হয়ে পারেনি।
রান্নাঘরে প্রবেশ করে দেখা যায়, খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল পচা ডিম ও মেয়াদোত্তীর্ণ পচা ব্রেডক্রাম্প।
এছাড়া অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কিলবিল করছিল ইঁদুর, তেলাপোকা, মশা ও মাছি। ডিপ ফ্রিজারে পড়ে ছিল আগের রেখে দেওয়া খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ, যার পাশেই অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে কাঁচা মুরগির মাংস।
শুধু তাই নয়, ফ্রিজারে খোলা অবস্থায় কাঁচা মাংসের গা ঘেঁষেই সংরক্ষণ করা হচ্ছিল খাওয়ার উপযোগী মিষ্টি দই!
যেখানে মাংস প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছিল, ঠিক তার পাশেই বসানো হয়েছে জ্যান্ত মুরগির আস্ত খামার!
এছাড়া রান্নাঘরের একদম পাশ দিয়েই বয়ে গেছে খোলা নোংরা ড্রেন, যার দূষিত বাতাস ও জীবাণু সহজেই মিশছিল প্রস্তুতকৃত খাবারে।
ভোক্তাদের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এমন অনিবন্ধিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ উপায়ে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করার দায়ে ফেঁসে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর ৩৩ ধারা অনুযায়ী ‘সাদিয়াস কিচেন’ কর্তৃপক্ষকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট শিফাত বিনতে আরা জানান, “আমরা অভিযানে এসে আক্ষরিক অর্থেই চমকে গেছি। এমন নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুতকৃত খাবার মানুষের পেটে গেলে তা মারাত্মক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। জনগণের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।”
আজকের এই বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি চৌকস দল সার্বিক নিরাপত্তা ও সমন্বয় সাধনে সহযোগিতা করেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, আপাতদৃষ্টিতে চকচকে অনেক রেস্তোরাঁই আড়ালে নোংরা পরিবেশ বজায় রাখছে।
ভোজনরসিক নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

