যে উল্লাস কেড়ে নিল মায়ের বুক খালি করা এক চিরন্তন কান্না

আর্জেন্টিনার জয়ের রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৩:২৬

রাত তখন সাড়ে তিনটে। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার জয়ের পর পুরো শহর যখন বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতোয়ারা, ঠিক তখনই স্তব্ধ হয়ে গেল একটি পরিবারের পৃথিবীর আলো।

আর্জেন্টিনার বিজয়ের সেই আনন্দঘন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন দীপ্ত চৌধুরী (২৩) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী।

বুধবার দিবাগত গভীর রাতে নেত্রকোনা পৌর শহরের ছোটবাজার এলাকার শহীদ মিনারের সামনে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দীপ্ত শহরের মালনী রোড এলাকার বাদল চৌধুরী ও শিউলী রায় দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার রোমাঞ্চকর সেমিফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করতে বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসা থেকে বের হন দীপ্ত।

বন্ধুদের সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখার পর প্রিয় দলের জয়ে মেতে ওঠেন উল্লাসে। রাত সাড়ে তিনটার দিকে যখন শহরে আনন্দ মিছিল বের হয়, তখন সেই বিশেষ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে শহীদ মিনার মোড় এলাকার সিঙ্গার শো-রুমের ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদে ওঠেন তিনি।

কিন্তু অসাবধানতাবশত ছাদের পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসেন দীপ্ত। মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি ছাদ থেকে নিচে ছিটকে পড়েন।

নিহত দীপ্তর মামা সুব্রত রায় জানান, “বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শেষে আর্জেন্টিনার বিজয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী মিছিলের প্রস্তুতি নেয়।

মিছিলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে দীপ্ত শহীদ মিনার মোড়ে সিঙ্গার শো-রুমের দ্বিতীয় তলায় উঠে। ভিডিও ধারণ করার সময় পাশেই থাকা বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ও নিচে পড়ে যায়।

পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় দীপ্তকে উদ্ধার করে দ্রুত নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে আনন্দ মিছিলের পুরো এলাকা নিমেষেই শোকের ছায়ায় ঢেকে যায়।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা-বাবার আহাজারিতে এখন ভারী হয়ে আছে মালনী রোডের বাতাস।

ফুটবলের যে উন্মাদনা এক তরুণকে মাঝরাতে ঘর থেকে টেনে এনেছিল, সেই উন্মাদনার শেষ পরিণতি যে এতটা করুণ হবে, তা ভাবতেও পারছেন না সহপাঠী ও প্রতিবেশীরা।

পুলিশ জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি