আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ চলছিল, হঠাৎ ছুরিকাঘাত, চমেকে ভর্তি বাঁশখালীর তরুণ

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৮

মাঠে তখন চলছ আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ডের মধ্যকার হাইভোল্টেজ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল।

বিশ্বসেরা দুই দলের পায়ের জাদু আর মাঠের টানটান উত্তেজনায় বুঁদ হয়ে আছে পুরো দেশ।

গভীর রাতেও চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার ২ নম্বর গেট এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখতে জড়ো হয়েছিলেন শত শত ফুটবলপ্রেমী।

উল্লাস, শ্লোগান আর করতালিতে মুখরিত ছিল পুরো এলাকা। কিন্তু কে জানত, এই ফুটবল উন্মাদনার আড়ালেই ওত পেতে আছে এক নির্মম সহিংসতা!

বুধবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে খেলা দেখার সেই উপচে পড়া জনসমাগমের মধ্যেই মো. আসাদুল হক (২১) নামে এক তরুণকে আচমকা ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তের মধ্যে রক্তের বন্যায় ভেসে যায় উৎসবের আমেজ।

আহত আসাদুল হক চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া এলাকার শিকদার বাড়ির ইয়াছিন আলীর ছেলে।

বর্তমানে তিনি নগরীর হামজারবাগ এলাকার সরওয়ারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ম্যাচের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ভিড়ের মধ্যে অজ্ঞাত কয়েকজন দুর্বৃত্ত আসাদুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আসাদুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

চারিদিকের হট্টগোলের মধ্যে প্রথমে বিষয়টি কেউ আঁচ করতে না পারলেও, আসাদুলের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন তাঁর বন্ধুরা।

তাৎক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

রাত ২টা ২৯ মিনিটে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে দ্রুত ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ চলাকালে ২ নম্বর গেট এলাকায় জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাত কয়েকজন আসাদুলকে ছুরিকাঘাত করে।

পরে তাঁর বন্ধুরা উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা আসাদুল হক আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।”

তবে উৎসবের রাতে এমন হামলার নেপথ্যে কী কারণ ছিল, কিংবা কারা এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কোনো বাগবিতণ্ডা, নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলা-তা উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

ফুটবলের নিখাদ আনন্দ যেখানে সম্প্রীতির বার্তা বয়ে আনার কথা, সেখানে এমন রক্তক্ষয়ী ঘটনা সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উস্কে দিচ্ছে নানা প্রশ্ন।

অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি