মাঠে তখন চলছে বাঁধভাঙা উল্লাস। থ্রি-লায়ন্সদের ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালের টিকিট পকেটে পুরেছে আলবিসেলেস্তেরা। ইংলিশ ফুটবলাররা ততক্ষণে ভগ্নহৃদয়ে মাঠ ছেড়েছেন।
কিন্তু লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের উদযাপন থামে কই! আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে তখন শুধুই আকাশি-সাদা রঙের জয়গান।
ঠিক এই মহোৎসবের মাঝেই ঘটল এক অদ্ভুত ও চমকপ্রদ ঘটনা, যা রূপ নিল ম্যাচের অন্যতম সেরা পার্শ্বচরিত্রে।
ম্যাচ শেষ হলেও মাঠেই পড়ে ছিল ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলটি।
উল্লাসেরত আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ভিড়ে বোতলটি কুড়িয়ে পান দলের ম্যাসাজ থেরাপিস্ট মার্সেলো ডি’আন্দ্রেয়া। আর তাতেই বেরিয়ে আসে এক গোপন পরিকল্পনা!
পিকফোর্ডের সেই বোতলের গায়ে সেঁটে দেওয়া ছিল একটি বিশেষ নোট বা চিরকুট। যেখানে লেখা ছিল সম্ভাব্য টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি শুটারদের আদ্যোপান্ত।
লটারির সেই স্নায়ুযুদ্ধে কোন আর্জেন্টাইন শট নিলে সাধারণত গোলপোস্টের কোন দিক বেছে নেন-তার চুলচেরা বিশ্লেষণ লিখে রেখেছিলেন ইংলিশ এই গোলরক্ষক।
সম্প্রচার ক্যামেরায় দেখা যায়, বোতলটি হাতে পেয়েই ডি’আন্দ্রেয়া ছুটে যান অধিনায়ক লিওনেল মেসি, নিকোলাস গঞ্জালেস ও মার্কোস সেনেসির কাছে।
কৌতুহলী মেসি বেশ মনোযোগ দিয়ে কাগজটিতে চোখ বোলাচ্ছিলেন। প্রতিপক্ষের এমন সূক্ষ্ম হোমওয়ার্ক দেখে মেসি ও তাঁর সতীর্থদের মুখে তখন চওড়া হাসি।
শুধু মেসি কিংবা গঞ্জালেস নন, সেই গোপন তালিকায় নাম ছিল ম্যাচের ৮৫ মিনিটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরানো মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজেরও।
চিরকুটে নিজের নাম ও শট নেওয়ার প্রবণতার বিবরণ দেখে হেসেই ফেলেন এই তারকা।
এরপর আকাশের দিকে তাকিয়ে দুহাত তুলে ইশারা করেন-যার সহজ তর্জমা দাঁড়ায়, ‘বাঁচা গেল! ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়নি!’
পিকফোর্ডের এই নিখুঁত হোমওয়ার্ক অবশ্য শেষ পর্যন্ত কোনো কাজেই আসেনি। কারণ, ম্যাচের যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) লাউতারো মার্তিনেজের সেই জাদুকরী গোল টাইব্রেকারের সব হিসাব-নিকাশ চুরমার করে দেয়।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে পিকফোর্ডের সেই চিরকুট সম্বলিত বোতলের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন আর্জেন্টিনার ফিটনেস কোচ লুইস মার্তিন।
ছবিটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য সকল পেনাল্টি শুটারের জন্য আলাদা আলাদা দিকনির্দেশনা আগে থেকেই বোতলে টুকে রেখেছিলেন পিকফোর্ড।
টাইব্রেকার ভাগ্য নির্ধারণী হলে হয়তো এই বোতলটিই হতে পারত পিকফোর্ডের ট্রাম্পকার্ড।
তবে মাঠের নাটকীয়তায় শেষ পর্যন্ত সেই গোপন নথি শুধুই আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমের একচিলতে হাসির খোরাক হয়ে রইল।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

