চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানাধীন মনসুরাবাদ এলাকার একটি অন্ধকার গ্যারেজ। প্রতিদিনের মতো সেখানে পরম যত্নে পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করছিলেন সত্তর বছর বয়সী বৃদ্ধ মোহাম্মদ সিদ্দিক।
কিন্তু বৃহস্পতিবারের সকালটা আর দশটা সকালের মতো আলো নিয়ে আসেনি তাঁর জীবনে। মনসুরাবাদের এক গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর নিথর, রক্তাক্ত দেহ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মোহাম্মদ সিদ্দিক (৭০) মনসুরাবাদ এলাকারই স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।
ওই গ্যারেজে দীর্ঘদিন ধরে নৈশপ্রহরীর কাজ করে আসছিলেন তিনি। তবে গত কয়েকদিন ধরে তাঁর এই চেনা কর্মক্ষেত্রেই তৈরি হয়েছিল এক চাপা উত্তেজনা।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম ঘটনার নেপথ্যের গল্পটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
তিনি জানান, কয়েক দিন আগে ওই গ্যারেজ থেকে কিছু মূল্যবান ব্যাটারি চুরি হয়ে যায়।
চুরির এই ঘটনায় নিজের সততা আর দায়িত্ববোধ থেকেই সম্ভবত আপস করতে চাননি প্রবীণ সিদ্দিক।
তিনি চুরি যাওয়া ব্যাটারি ফেরত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চুরির মালামাল ফেরত পাওয়ার জন্য বৃদ্ধ সিদ্দিকের এই অনড় অবস্থান ও ক্রমাগত চাপই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য।
ক্ষুব্ধ চোরচক্র বা তাদের সহযোগীরা বুধবার রাতের কোনো এক সময়ে গ্যারেজের ভেতরেই তাঁর ওপর চড়াও হয়।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম জানান, “নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার রাতের কোনো এক প্রহরে দুর্বৃত্তরা তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ গ্যারেজে ফেলে রেখে যায়।”
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা গ্যারেজের ভেতরে সিদ্দিকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে ডবলমুরিং থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
সুরতহাল শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে পুলিশ ইতিমধেই তৎপরতা শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটন করতে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

