চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ২ নম্বর গেটের শপিং মল ফিনলে স্কয়ার। বৃহস্পতিবার রাতের চেনা ব্যস্ততা আর আলোঝলমলে পরিবেশ নিমেষেই স্তব্ধ হয়ে গেল এক যুবকের আকস্মিক পতনে।
ভবনের পাঁচতলা থেকে নিচে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আনুমানিক ২৫-৩০ বছর বয়সী এক অচেনা তরুণ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ফিনলে স্কয়ার ভবনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় শপিং মলের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে নিয়তি ততক্ষণে তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক জানান, “রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে যুবকটিকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরনে কী ছিল বা তার কাছে কোনো পরিচয়পত্র ছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।”
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি থেকে বলা হয়, “একটি প্রাণ এভাবে হুট করে চলে গেল, অথচ আমরা এখনও জানি না তার মা-বাবা কিংবা স্বজনরা কোথায় অধীর আগ্রহে তার পথ চেয়ে বসে আছেন। পরিচয় শনাক্ত করাই এখন আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”
এদিকে ব্যস্ত বিপণিবিতানের পাঁচতলা থেকে কীভাবে ওই যুবক নিচে পড়ে গেলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এটি কি কেবলই একটি দুর্ঘটনা, অসাবধানতা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গল্প লুকিয়ে আছে-তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, যুবকটি সেখানে কেন গিয়েছিলেন এবং কীভাবে পাঁচতলা থেকে নিচে পড়ে গেলেন, তার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। শপিং মলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ সব ধরনের তদন্ত চালানো হচ্ছে।”
রাত ফুরিয়েছে, কিন্তু ফিনলে স্কয়ারের সেই অন্ধকার কোণে রেখে যাওয়া প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করতে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) প্রযুক্তিসহ সম্ভাব্য সব উপায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
কোনো পরিবার যদি তাদের নিখোঁজ সন্তানের খোঁজ করে থাকেন, তবে পাঁচলাইশ থানা বা চমেক হাসপাতালে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পুলিশ আশা করছে, দ্রুতই উন্মোচিত হবে তার পরিচয় এবং মৃত্যুর অন্তরালের প্রকৃত সত্য।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

