নগরীর রাস্তা ও নালা-এগুলো কার? কোনো ব্যক্তিবিশেষের পৈতৃক সম্পত্তি নয়, বরং সাধারণ পথচারী ও নগরবাসীর চলাচলের মৌলিক অধিকার।
কিন্তু চাটগাঁর ব্যস্ততম মোমিন রোডের ঝাউতলা এলাকায় সেই অধিকারকেই বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছিল অবৈধ দখলের মহোৎসব।
অবশেষে সেসব শৃঙ্খল ভেঙে সাধারণ মানুষের পথ সুগম করতে কঠোর অভিযানে নেমেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ঝাউতলা এলাকায় পরিচালনা করা হয় এক বিশেষ উচ্ছেদ ও জরিমানা অভিযান।
অভিযান চলাকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ঝাউতলা এলাকার কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী চলাচলের মূল রাস্তা এবং পানি নিষ্কাশনের প্রধান নালা দখল করে দোকানের মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছিলেন।
এতে কেবল পথচারীদের স্বাভাবিক যাতায়াতই ব্যাঘাত হচ্ছিল না, বরং নালার মুখ বন্ধ হয়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
জনস্বার্থবিরোধী এই অপকর্ম হাতেনাতে ধরে ফেলে চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নিয়মভঙ্গ ও চলাচলের পথ রুদ্ধ করার অপরাধে তাৎক্ষণিকভাবে ৭ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং সর্বমোট ২১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা বলেন, নগরীর সড়ক, ফুটপাত কিংবা নালা দখল করে কাউকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
স্বাভাবিক পথচলা নিশ্চিত করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিকের এই জিরো ট্রলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে।
চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘জলাবদ্ধতা’। আর এই জলাবদ্ধতার অন্যতম নেপথ্য কারণ-নালা-নর্দমা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা বা মালামাল রাখা। চসিকের এই ঝটিকা অভিযান ঝাউতলা এলাকার সাধারণ পথচারী ও সচেতন মহলকে আশান্বিত করেছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

