ধর্মীয় উপাসনালয়ের পবিত্রতা রক্ষা ও অপরাধীদের জালে তুলতে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানা পুলিশ।
উপজেলার দুটি পৃথক মন্দিরে সংঘটিত চুরির ঘটনায় অত্যন্ত দ্রুততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অভিযান চালিয়ে চক্রটির মূল ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া মূল্যবান দেব-দেবীর অলংকার ও পূজা সামগ্রী, নগদ টাকা এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৫ ঘটিকায়। ফটিকছড়ি থানাধীন সুন্দরপুর ইউনিয়নের সর্বজনীন শ্রী শ্রী শিব ও মগধেশ্বরী মন্দিরে থাবা বসায় এই দুর্ধর্ষ চোরচক্র।
এর ঠিক আট দিনের মাথায়, ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২ ঘটিকায় লেলাং ইউনিয়নের শ্রী শ্রী মা মঙ্গল চণ্ডী মন্দিরে একইভাবে হানা দেয় তারা।
পরপর দুই ধর্মীয় উপাসনালয়ে চুরির পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়েই ফটিকছড়ি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বের সঙ্গে নেয় ফটিকছড়ি থানা পুলিশ। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে বিশেষ টিম।
বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সোর্স নেটওয়ার্ক এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে খুব দ্রুতই অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর পরিচালনা করা হয় এক ঝটিকা অভিযান, যাতে ভেস্তে যায় আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার সব পরিকল্পনা।
গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে পুলিশ উদ্ধার করে বিপুল পরিমাণ চুরি হওয়া দ্রব্যাদি। তালিকায় রয়েছে-১টি দুর্গামূর্তি ও ১টি আরতি, ৩টি বড় ও ছোট পিতলের ঘট এবং ১টি পিতলের বড় ঘট, ২টি পিতলের পঞ্চবটি প্রদীপ ও ২টি ত্রিশূল, ১টি পিতলের ঘণ্টা, ৬টি পিতলের সরই ও ৬টি পিতলের ছোট থালা, ৪টি পিতলের বাটি, ২টি পিতলের কোষা ও ১টি বদনা, ১টি কাঁসার গামলা ও ১টি গ্লাস, ৬টি স্টিলের ছোট-বড় প্লেট ও ২টি চামচ, প্রণামী বক্স থেকে সংগৃহীত নগদ ১২০০ টাকা ও চুরির কাজে ব্যবহৃত ১টি সিএনজি অটোরিকশা।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-মোঃ ইউসুফ (৩২): পিতা-মৃত জয়নাল আবেদীন, মাতা-মৃত মাজেদা বেগম; সাং-কালাকুনা, মালিগাঁও, থানা-দাউদকান্দি, জেলা-কুমিল্লা। ২. মোঃ হাশেম (৪২): পিতা-রফিকুল আলম, মাতা-মৃত জাহানারা বেগম; সাং-উত্তর ধুরুং (ছিদ্দিক চৌকিদার বাড়ি), থানা-ফটিকছড়ি, জেলা-চট্টগ্রাম। ৩. মোঃ সাহাব উদ্দিন (৪১): পিতা-মৃত বেলায়েত হোসেন, মাতা-রেজিয়া বেগম; সাং-উত্তর রাঙ্গামাটিয়া (হামজা টিলা, ০১ নং ওয়ার্ড, ফটিকছড়ি পৌরসভা), থানা-ফটিকছড়ি, জেলা-চট্টগ্রাম। ৪. রুহুল আমিন (২৯): পিতা-মৃত জামির হোসেন, মাতা-আছমা বেগম; সাং-চন্দ্রপুর, থানা-কসবা, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া। (বর্তমান ঠিকানা: ষোলশহর, আই কলোনি, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম)।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গ্রেফতারকৃত চক্রটি কেবল মন্দিরেই নয়, এলাকার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত ছিল।
এই সংঘবদ্ধ চক্রের পেছনে আর কোনো ইন্ধনদাতা বা সহযোগী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
ফটিকছড়ি থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সমগ্র এলাকায় অপরাধ দমনে তাদের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


