back to top

ঘোষণা আছে, বাস্তবায়ন নেই: মেয়রের কথা মাঠে অকার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:১১

সিটিজি নিউজ টুডে : চট্টগ্রাম সিটি করপোশেনের আওতাধীন নগরীর সকল বাসাবাড়ির ময়লা অপসারণে আর কোনো টাকা দিতে হবে না-এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চসিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেছিলেন, এপ্রিল মাস থেকে নগরবাসীকে ময়লা অপসারণের জন্য আলাদা করে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না।

কিন্তু ঘোষণার দেড় মাস পার হলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। ফলে আগের মতোই নগরবাসীকে ময়লা ফেলতে গুনতে হচ্ছে নির্ধারিত অর্থ, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেয়রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এখনও ময়লা সংগ্রহের নামে অর্থ দাবি করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (ভেন্ডর) এবং কিছু ক্ষেত্রে চসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাসাবাড়িতে পড়ে থাকছে ময়লা, যা জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

নগরীর দক্ষিণ বাকলিয়া, চান্দগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকাবাসী প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, মেয়রের ঘোষণা শুনে আমরা সবাই খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু ভেন্ডরদের মেয়রের ঘোষণার কথা বললে তারা উল্টো বলেন—চসিককে গিয়ে বলতে। মেয়রের কথাই যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?

আশরাফুল নামে ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে মেয়র ঘোষণা দিয়েছিলেন কিন্তু এপ্রিলে এসেও তা বাস্তবায়নের চিত্র দেখছি না।

বরং ভেন্ডররা ময়লা নিতে বাসায় এসে টাকা দাবি করে। আপত্তি জানালে,টাকা না দিলে তারা যার যার ময়লা নিজেদের উদ্দ্যেগে ডাস্টবিনে ফেলে আসার নির্দেশ করেন। ফলে বাধ্য হয়ে প্রতি বাসা থেকে আগের মতো ৭০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, পূর্বে নগরীর কিছু ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে বেসরকারি ভেন্ডরদের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তবে সেবার মান নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠায় সেই কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মেয়রের ঘোষণানুযায়ী, মার্চ মাস থেকে চসিকের প্রায় দুই হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী সরাসরি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করার কথা।

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নগরীর টাইগার পাসস্থ চসিক কার্যালয়ে ডোর-টু-ডোর কার্যক্রম বিষয়ে ভেন্ডরদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছিলেন, “নগরবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাসাবাড়ির ময়লা অপসারণে টাকা নেওয়া বন্ধ করা হয়েছে।

চসিকের নিজস্ব কর্মীরাই বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ করবেন। কেউ যদি অর্থ দাবি করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সুপারভাইজারকে জানাতে হবে—আমরা ব্যবস্থা নেব।”

তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। মাঠপর্যায়ে তদারকির ঘাটতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের অসংগতি এবং পুরনো ব্যবস্থার প্রভাব—এসব কারণে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ঘোষণার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নগরবাসী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি, জবাবদিহিতা এবং নিয়মিত মনিটরিং অপরিহার্য। অন্যথায় ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে জনবান্ধব উদ্যোগগুলো।

এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ঘোষণার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগরবাসী।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি