সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রঙিন পর্দায় যার পরিচয়, তার আড়ালে যে এতটা নির্মম বাস্তবতা লুকিয়ে থাকতে পারে-তা হয়তো ভাবতেও পারেননি এক ভুক্তভোগী তরুণী।
বিশ্বাসের শক্ত ভিত ভেবে যার ওপর ভরসা করেছিলেন, শেষপর্যন্ত সেই মানুষটির পরিচয়ই হয়ে দাঁড়াল চরম প্রতারণার নাম।
বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস, শারীরিক সম্পর্ক ও পরবর্তীতে নির্মম প্রত্যাখ্যানের মুখমুখী হয়ে ন্যায়বিচারের দরবারে কড়া নেড়েছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী।
আর এই অভিযোগের তীর উঠে এসেছে চট্টগ্রাম নগরের ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)’ মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আফতাব মজুমদার জয়ের দিকে।
চান্দগাঁও থানায় দায়ের করা ধর্ষণ ও প্রতারণা মামলায় পুলিশ তাকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রের তথ্যমতে, রূপালী পর্দার মতো সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।
পরিচয় থেকে ভালোলাগা, আর সেখান থেকে বিয়ের আশ্বাসে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অভিযুক্ত আফতাব মজুমদার জয় ও ভুক্তভোগী তরুণী।
সম্পর্কের সেই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও থানাধীন ‘সুইট প্যালেস’ হোটেলের ২০৮ নম্বর কক্ষে তরুণীকে নিয়ে যান জয়।
অভিযোগে বলা হয়, সেখানে বিয়ের লোভনীয় প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি।
বিশ্বাসের বুকভাঙা পরিণতি
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী তরুণী যখনই বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন, তখনই বদলে যেতে থাকে জয়ের আচরণ। একপর্যায়ে তিনি বিয়েতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান এবং তরুণীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পরবর্তীতে অনুসন্ধান করে ভুক্তভোগী তরুণী জানতে পারেন এক নির্মম সত্য-যে মানুষটিকে তিনি নিঃসংকোচে বিশ্বাস করেছিলেন, সেই আফতাব মজুমদার জয় আগেই বিবাহিত। গোপন রাখা হয়েছিল তার আগের সংসার ও বাস্তব জীবনের বড় একটি অধ্যায়।
আইনের আশ্রয় ও পুলিশের পদক্ষেপ
প্রতারিত ও প্রতারণার শিকার তরুণী চুপ থাকেননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের আশায় গত ১৯ জুলাই চান্দগাঁও থানায় নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর ৯(১) ধারায় মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়।
মামলা দায়েরের পর মাঠে নামে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) অভিযুক্ত আফতাব মজুমদার জয়কে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেন চান্দগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) সবুজ রহমান।
ওসি (তদন্ত) সবুজ রহমান বলেন, এক তরুণীর দায়ের করা সুনির্দিষ্ট মামলায় আফতাব মজুমদার জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।
তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করার কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।
সামাজিক পরিচয় বা রাজনৈতিক পদমর্যাদা যা-ই হোক না কেন, আইনের চোখে অপরাধের সুষ্ঠু তদন্তই এখন সময়ের দাবি।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

