চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা গ্রামে নিজের আপন ছোট ভাইয়ের কোদালের এক কোপে চিরতরে নিভে গেল স্থানীয় মুদির দোকানদার মো. নেজম উদ্দিনের (৩৮) জীবনপ্রদীপ।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে দেবরকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতকের মা ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করলেও ঘটনার মূল নায়ক ছোট ভাই এখনো পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম শাকপুরা ঘোষখীল গ্রামের আছাদ তালুকদার বাড়ির মৃত আবদুল হালিমের বড় ছেলে মো. নেজম উদ্দিন পেশায় একজন মুদির দোকানদার ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ছোট ভাই মো. জামাল উদ্দিন সুমনের (৩৬) সঙ্গে নেজামের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জামাল ঘরে থাকা কোদাল দিয়ে বড় ভাই নেজামের ওপর চড়াও হয় এবং সজোরে আঘাত করে।
কোদালের ধারালো আঘাতে মারাত্মক আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন নেজম। পরবর্তীতে স্বজনরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ততক্ষণে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই ব্যবসায়ী।
হত্যাকাণ্ডের এই বিভীষিকাময় ঘটনার পর মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিহতের স্ত্রী মোছাম্মৎ পারিয়া তানহা মাইমা বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তিনি নিজ দেবর মো. জামাল উদ্দিন সুমনকে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি শাশুড়ি হালিমা বেগম (৭০) ও দেবরের স্ত্রী সানজিদা আকতার পপিকে (২৬) অভিযুক্ত করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই বোয়ালখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামি-নিহতের মা হালিমা বেগম ও দেবরের স্ত্রী সানজিদা আকতার পপিকে গ্রেপ্তার করে।
একই সঙ্গে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতের স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে।
এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার প্রধান আসামি ঘাতক জামাল উদ্দিন সুমনকে গ্রেপ্তারে আমাদের পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন হওয়ার পর আছাদ তালুকদার বাড়িতে শোক ও স্তব্ধতা বিরাজ করছে। এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

