ভবিষ্যতের চট্টগ্রাম কেমন হবে? ২৫ বছরের মেগাপ্ল্যানে সিডিএ, মতামত দেবেন আপনিও!

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২৭

অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুলগুলো শুধরে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, নান্দনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাসযোগ্য মেগাসিটিতে রূপ দিতে ২৪ কারাতের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক জমকালো সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৫ বছরের জন্য সিডিএ-এর এই ৪র্থ মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া উন্মোচন করা হয়। একই সাথে নগর রূপায়ণে নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে মতামত ও পরামর্শ।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন মাস্টারপ্ল্যানে শুধুমাত্র বর্তমান মূল শহরের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।

বরং চট্টগ্রাম মহানগরের ওপর জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ কমানোর লক্ষ্যে শহরের পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা, রাউজান, হাথাজারী, পটিয়া এবং সীতাকুণ্ডের মতো বিস্তৃত এলাকাকে মূল পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে।

পরিকল্পনার প্রধান প্রধান ফোকাস পয়েন্ট:

মূল শহরের বাইরে সমন্বিত নাগরিক সুবিধা নিয়ে পরিকল্পিত মিনি ও স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা। যে সংস্থাই ভবন বা অবকাঠামোর অনুমোদন দিক না কেন, প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যানের বাইরে এক চুলও যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

পাহাড়, নদী, খাল, পুকুর ও জলাশয় রক্ষায় কঠোর নজরদারির পাশাপাশি শিল্প, বাণিজ্য, পরিবহন এবং আবাসনের মধ্যে একটি সুষম সমন্বয় তৈরি এবং আধুনিক যোগাযোগ ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থার বাস্তবমুখী রূপরেখা।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বেশ খোলামেলা ও সততার সাথে অতীতের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, আইন, নিয়ম ও দূরদর্শিতার ব্যত্যয় ঘটার কারণেই আমরা চট্টগ্রামবাসীকে শতভাগ কাঙ্ক্ষিত ও পরিকল্পিত নগরী উপহার দিতে পারিনি। কিন্তু এবার ভুল পুনর্বৃত্তির সুযোগ নেই।

তবে শুধু সুন্দর পরিকল্পনা কাগজে-কলমে থাকলেই চলবে না, নাগরিকরা সচেতন ও সোচ্চার না হলে এই মাস্টারপ্ল্যান সফল করা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক মো. আবু মুছা আনছারী।

এছাড়া সিডিএ বোর্ড সদস্য এস এম জাহিদুল করিম, স্থপতি ফারুক আহমেদ, প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন, মো. নজরুল ইসলাম, সার্বক্ষণিক সদস্য মো. জামিলুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এম হাবিবুর রহমানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কেমন হবে-তা নির্ধারণে এবার কলম তোলার সুযোগ খোদ নাগরিকদের হাতে। আগামী ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৬০ দিন এই খসড়ার ওপর যে কেউ মতামত, পরামর্শ বা আপত্তি জমা দিতে পারবেন।

সিডিএ ভবনের ৪র্থ তলায় গিয়ে খসড়া পরিকল্পনার মূল প্রতিবেদন, প্রস্তাবনা ও নতুন মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করা যাবে এবং ঘরে বসেই সিডিএ-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.cda.gov.bd) অথবা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে লগইন করে আপনার সুচিন্তিত মতামত জানাতে পারবেন।

স্বপ্নের বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে আগামী প্রজন্মের জন্য শতভাগ বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সিডিএ-এর এই মহতী উদ্যোগে আপনার একটি গঠনমূলক মতামতই হতে পারে পরিবর্তনের মূল হাতিয়ার।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি