চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের এক বহুল আলোচিত নাম ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পু (৩৫)।
অস্ত্র, খুন, ডাকাতিসহ ডজন ডজন মামলার আসামি এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আদালত থেকে জামিনের আদেশ পেয়ে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার প্রহর গুনছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।
জেলগেটে মুক্তির সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে পা বাড়ানোর মুহূর্তেই তাকে ঘিরে ফেলে পুলিশের বিশেষ টিম। নতুন এক মামলায় তাকে আবারও গ্রেপ্তার করে ঠেলে দেওয়া হয়েছে কারাগারের সেই পুরনো প্রকোষ্ঠেই।
রোববার (২ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মুহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী।
আইনের ফাঁক বনাম পুলিশের শক্ত অবস্থান পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট-৪ আদালত ইসমাইল হোসেন টেম্পুর মুক্তির নির্দেশ দেওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ আইনি সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল।
তবে আদালতের সেই জামিননামা হাতে পৌঁছালেও কারাগারের বাইরের মুক্ত হাওয়া গায়ে মাখতে পারেননি টেম্পু।
২০২৫ সালের ১৩ জুন নগরীর কোতোয়ালী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানান্তরিত গ্রেপ্তার (শোন-অ্যারেস্ট) দেখানো হয়।
পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আগের থেকে বলবৎ থাকা প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউডি) সক্রিয় থাকায় মুক্তি আটকে যায় তার।
আইনশৃঙ্খলার জন্য স্থায়ী মাথাব্যথা সিএমপির কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, টেম্পু চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত ও অত্যন্ত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। এর আগেও সে অন্ততঃ ১৩ বার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল।
কিন্তু প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে সে কোনো অপরাধ থেকে দূরে তো থাকেইনি, বরং দ্বিগুণ উল্লাসে অপরাধ জগতে দাপিয়ে বেড়িয়েছে।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এবার কঠোর আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে আবারও আইনের আওতায় রাখা হয়েছে।
অপরাধের পাহাড় ও ৩০টি মামলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রেকর্ড অনুযায়ী, ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পুর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন থানায় খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র বহন ও মাদকের লেনদেনসহ অন্তত ৩০টি গুরুত্বর মামলা বিচারাধীন।
বার বারবার জামিনে বের হয়ে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটানোয় এবার তাকে কাবু করতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
কারাগারের ফটকে চাতুর্যপূর্ণ এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি চট্টগ্রাম জুড়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সচেতন মহলের মতে, বারবার জামিনে মুক্ত হয়ে পার পেয়ে যাওয়া দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের দমনে পুলিশের এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

