জুলাই-আগস্টের অগ্নিঝরা দিনগুলোর রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের অর্জনের ফ্রেমে বাঁধার বিষয় নয়।
এটি কোনো একজনের নয়, এটি ছাত্র, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, রাজনৈতিক কর্মী, সুশীল সমাজ ও রাজপথের সাধারণ মানুষের বুকের তাজা রক্ত ও আত্মত্যাগের চূড়ান্ত ফসল।
তাই এই মহান আন্দোলনকে কোনো সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে, আমাদের জাতীয় ঐক্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতীক হিসেবে বুকে ধারণ করতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড় সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে কথাগুলো অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার সকালে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা শোষণ, জুলুম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনগণের যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তারই নতুন ও চূড়ান্ত মাত্রা প্রকাশ পেয়েছে এই গণঅভ্যুত্থানে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে লড়াই চালিয়ে গেছে।
চট্টগ্রামে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, জাসাস এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অকাতরে মামলা, হামলা ও কারাবরণ সহ্য করেও আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছেন।
সংগ্রামের অতীত ইতিহাস টেনে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশের মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছে।
এ সময় তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অপরিসীম রাজনৈতিক ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, অন্যায় ও প্রতিকূলতার মুখেও বেগম জিয়া কখনো দেশের মানুষের পাশ থেকে সরেননি।
পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই আন্দোলনকে সুসংগঠিত করতে এবং গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে রাজপথে নামিয়ে আনতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মেয়র বৈষম্যবিরোধী ও গণআন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য শহীদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ রাব্বি, শহীদ ফারুক ও শহীদ তানভীরসহ সকল বীর শহীদের অবদানকে স্মরণ করেন।
তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, যাঁরা রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে আমাদের নতুন একটি ভোর উপহার দিয়েছেন, তাঁদের ঋণ কোনোদিন শোধ হওয়ার নয়।
তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং সমাজের বিত্তবান ও সাধারণ মানুষকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জোর আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনের শেষলগ্নে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে চসিক মেয়রের সেই কালজয়ী আহ্বান-আসুন, আমরা সবাই মিলে এই আন্দোলনকে ‘আমার আন্দোলন’ নয়, ‘আমাদের আন্দোলন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি। জাতীয় ঐক্য অটুট রেখে বিভেদ নয়, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমেই আমরা শহীদদের রক্তকে সার্থক করে তুলব।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

