পার্বত্য পাহাড়ি সড়কের আঁকাবাঁকা পিচঢালা পথ ধরে ভোরবেলা কুতুকছড়ি বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল যাত্রীবাহী একটি পিকআপ।
ভোরের আলো পুরোপুরি ফোটার আগেই স্বজনদের কাছে সেই যাত্রার পরিণতি নিয়ে এল নিদারুণ এক দুঃসংবাদ।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে পিকআপটি। মুহূর্তেই আনন্দযাত্রা রূপ নেয় বিভীষিকাময় মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে।
রোববার (১৬ আগস্ট) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, রাঙ্গামাটি শহরের কল্যাণপুর থেকে যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল পিকআপটি (চট্টগ্রাম মেট্রো ন-১১-২৫৯৯)। মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প এলাকায় পৌঁছালে চালক গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে গাড়িটি ছিটকে পড়ে পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার বিকট শব্দে থমকে যায় শান্ত ভোর।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালান। কিন্তু ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি তিন যাত্রীর। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান- মেঘরানী চাকমা (৪৫), শান্তনা চাকমা (৩৮) ও শান্তি রঞ্জন চাকমা (৬৫)।
উদ্ধারকর্মীরা বাকিদের দ্রুত উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখানে গুরুতর আহত শোভা চাকমা (৫২)-র অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।
তবে নিয়তির নির্মম পরিহাসে চমেক হাসপাতালে পৌঁছানোর পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনিও। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মোট চারজন, যার মধ্যে তিনজনই নারী।
দুর্ঘটনায় পিকআপ চালক জ্ঞান বিকাশ চাকমা (৫০) এবং যাত্রী সুমন চাকমা (৪৫) নামের আরও দুজন মারাত্মক আহত হয়েছেন। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভোরে মোট ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজনকে আনা হয় মৃত অবস্থায়।
রাঙ্গামাটি কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জসীম উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন যে ক্ষতিগ্রস্ত যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই শোকস্তব্ধ স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ছুটে যান সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান।
তিনি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সব ধরনের সহায়তা ও চিকিৎসার আশ্বাস দেন।
এছাড়াও জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে পৌঁছে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমের তদারকি করেন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

