রাজপথের ভাগ-বাঁটোয়ারা নাকি তুচ্ছ বিরোধ: ঘুষিতে প্রাণ হারালেন যুবদল নেতা

অভিযুক্তদের খুঁজছে পুলিশ

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫০

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ের শান্ত সকালটি মুহূর্তে বিষাদ আর ক্ষোভে ভারী হয়ে উঠল এক অঘটনকে কেন্দ্র করে। ব্যস্ত সড়কে ভাসমান রিকশাভ্যানে পণ্য বিক্রি থাকবে, নাকি পথ থাকবে চলাচলের উপযোগী-এই দ্বন্দ্বে প্রাণ হারালেন পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল আমিন।

স্থানীয় বিএনপি পরিচয়ে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির পর মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে এই যুবনেতার।

শুক্রবার সকালে ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটলেও শনিবার তথ্যটি প্রকাশ্যে আসতেই পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তুচ্ছ পথ-বিরোধের নির্মম পরিণতি
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে নগরের চান্দগাঁও থানার ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকার ব্যস্ত সড়কে হকার বসানো কেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহজাহান দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ওপর একাধিক রিকশাভ্যান বসিয়ে পণ্য বিক্রির বন্দোবস্ত করে আসছিলেন।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদে ভাসমান এসব দোকান বসানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন যুবদল নেতা ফজলুল আমিন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

শুক্রবার সকালে এই রাজপথের আধিপত্য ও বসা-না বসানোকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে তীব্র তর্কবিতর্ক শুরু হয়।

একপর্যায়ে শাহজাহান ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে হাতাহাতির সময় একটি জোরালো ঘুষি ও ধাক্কায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ফজলুল আমিন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে গিয়ে আর উঠতে পারেননি তিনি।

আইনি ব্যবস্থা ও পরিবারের আর্তনাদ
প্রিয়জনকে হারিয়ে ফজলুল আমিনের পরিবারে এখন শোকের মাতম। এ ঘটনায় নিহত ফজলুল আমিনের পরিবার বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

মামলায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহজাহান ও তাঁর ছেলে সিফাতকে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছে।

রাজনীতি নাকি ব্যক্তিগত কোন্দল: দলের অবস্থান
ঘটনাটির রাজনৈতিক কোনো রূপ আছে কি না, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রাম নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

তিনি জানান, ফজলুল আমিন আগে থেকেই হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রাজনৈতিক আদর্শের কোনো লড়াই নয়, বরং সম্পূর্ণ স্থানীয় এলাকার একটি বিরোধের জেরে ঘটেছে।

অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, অপরাধ করলে তাকে আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতেই হবে। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকৃত বিএনপি কর্মী কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ কী বলছে?
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, সড়কে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয় এবং ফজলুল আমিন অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং এটি স্রেফ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু নাকি শারীরিক আঘাতজনিত কারণে ঘটেছে-তা ময়নাতদন্ত ও সার্বিক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি