পরিবারের মুখে একটু চওড়া হাসি ফোটানো আর অভাবের চাকাটা ঘুরিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন চট্টগ্রামের তরুণ মো. জামশেদুল ইসলাম (আলাউদ্দিন)।
কিন্তু ভাগ্য যে তাঁর জন্য অন্য এক করুণ চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিল, তা কে জানত!
দীর্ঘ সাড়ে ১৩ দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানলেন ২৫ বছর বয়সী এই প্রবাসী।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
জামশেদুল চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী আব্দুস সালামের বাড়ির মো. নজরুল ইসলামের ছেলে।
ছয় বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে তিনিই ছিলেন সবার ছোট-পরিবারের একমাত্র উপার্জনের ভরসা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে পরিবারের হাল ধরতে দেশ ছেড়ে আমিরাতের আবুধাবির মুসাফ্ফা এলাকায় বসবাস শুরু করেন আলাউদ্দিন। দিনরাত পরিশ্রম করে দেশে টাকা পাঠাতেন পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে।
কিন্তু গত ১৬ আগস্ট ভাগ্য চাকা ঘুরে যায় অন্যদিকে। মুসাফ্ফা থেকে আল আইন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় হঠাৎ সিঁড়ি থেকে নিচে পড়ে যান তিনি।
মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগলে সহকর্মীরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
নিহতের ভাগিনা মো. জোবায়েত জানান, দীর্ঘ সময় আইসিইউতে চিকিৎসকের আপ্রাণ চেষ্টা ও স্বজনদের প্রার্থনার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। শনিবার বিকেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রবাস থেকে আলাউদ্দিনের মৃত্যুর খবর বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ গ্রামে পৌঁছামাত্র পুরো এলাকায় শোকের মাতম নেমে আসে।
আদরের ছোট ভাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ছয় বোন, আর একমাত্র উপার্জনকে হারিয়ে দিশেহারা বৃদ্ধ বাবা-মা।
এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

