দুই মামলায় জামিন পেলেও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির পথ কতদূর?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২৫

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর আইনি লড়াইয়ে যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। ভাঙচুর ও পুলিশি কাজে বাধার অভিযোগে করা দুই মামলায় আজ রোববার হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন তিনি।

বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ বিষয়ে পূর্বে জারি করা রুল চূড়ান্ত (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে রায় দেন।

তবে এই জোড়া জামিনের পরও এখনই কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান অন্যান্য মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

আদালতে চিন্ময় দাসের পক্ষে আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য শুনানি পরিচালনা করেন। তাঁর সাথে ছিলেন আইনজীবী জয়া ভট্টাচার্য, অনুপ কুমার সাহা ও মিন্টু কুমার মন্ডল।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম সুজন।

হাইকোর্টের এই জামিনের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে ইতোমধ্যে ফাইল নোটিং দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানান, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পূর্বে পুলিশি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অন্য দুই মামলায় গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

আজকের রায়ে আরও দুটি মামলায় তিনি জামিন পেলেন। তবে বাকি দুই মামলার মধ্যে জাতীয় পতাকার অবমাননা সংক্রান্ত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ স্থগিত রয়েছে এবং আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলাটি চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে ওই দুই মামলার নিষ্পত্তির ওপরই নির্ভর করছে তাঁর চূড়ান্ত কারামুক্তি।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় জাতীয় পতাকা অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন (পরবর্তীতে বাদীকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়)।

ওই মামলাতেই ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হন চিন্ময় দাস। এর পরদিন ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে তাঁর জামিন আবেদন নাকচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এই সহিংসতার সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যাতে পরবর্তীতে চিন্ময় দাসকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি