দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে রক্ষা করতে এবার মধ্যরাতে গর্জে উঠল উপজেলা প্রশাসন। রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের যে উৎসব চলছিল, সেখানে আচমকা হানা দিয়ে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে তিনটি স্পট থেকে জব্দ করা হয়েছে আনুমানিক ৮ হাজার ঘনফুট অবৈধ বালু।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত সাড় ৯টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত টানা আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে এই দুঃসাহসিক ও সুনির্দিষ্ট অভিযান।
উপজেলার ভূজপুর ও নারায়নহাট ইউনিয়নের হালদা নদীসংলগ্ন সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে দেখা যায়, ভূজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি ভিন্ন স্থানে নদীর পাড় কেটে ও অবৈধভাবে বালু তুলে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। চতুর বালুদস্যুরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে রাতের আঁধারকে হাতিয়ার করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া ফটিকছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্যাহ জানান, জব্দকৃত প্রায় ৮ হাজার ঘনফুট বালু দ্রুততম সময়ের মধ্যে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। বিক্রয়লব্ধ সম্পূর্ণ অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
অভিযানকালে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পুরো এলাকা কর্ডন করে পুলিশ দল। এতে সার্বিক ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা প্রদান করেন ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল দে এবং তাঁর সঙ্গীয় চৌকস পুলিশ সদস্যরা।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্যাহ বালুখেকোদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, হালদা নদী আমাদের জাতীয় সম্পদ। রাতের আঁধার কিংবা যেকোনো অজুহাতে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করে যারা হালদার অস্তিত্ব ধ্বংসের পাঁয়তারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় নয়।
এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের আইনি অভিযান ও নজরদারি নিয়মিত জারি থাকবে।
প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও কড়া পদক্ষেপে ভূজপুর ও নারায়নহাট এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের এমন জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার এই অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ তার ঐতিহ্য ফিরে পাবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


