জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিচার সংস্কার দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের যে লড়াই তা শেষ হয় নাই। এই লড়াই আমাদেরকে নতুন করে শুরু করতে হবে।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই সনদ এবং জনগণের যে গণরায়, যার ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছে, যার ভিত্তিতে সরকার গঠিত হয়েছে সেই গণভোটের রায়কে বাতিল করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আদালতকে দলীয় ও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হলে পরিণতি খুবই করুণ হবে।
আরও পড়ুন
সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর দ্য কিং অব চিটাগাং-এ এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচনে এনসিপি ছয়টি আসন জিতে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেছে। এটা সহজ কাজ ছিল না। রাজপথে গণঅভুত্থ্যান থেকে জাতীয় সংসদে পৌঁছেছে।
পৃথিবীর অনেক দেশের সাম্প্রতিক সময়ের গণঅভুত্থ্যান যদি আপনারা দেখেন। যেখানে ছাত্র তরুণরা নেতৃত্ব দিয়েছে।
বেশিরভাগ দেশেই পুরনো বন্দোবস্ত, বিদ্যমান স্টাব্লিসমেন্ট নতুন নেতৃত্বকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড়া হইতে দেয় নাই। একই ঘটনা বাংলাদেশেও ঘটেছিল।
৫ অগাস্টের পর থেকে এই তারুণ্যের শক্তিকে দমন করার জন্য নানান শক্তি অপশক্তি একসাথে কাজ করেছে।
এই নির্বাচনে সর্বাত্মকভাবে রুখে দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জনগণের সহযোগিতায় ১১ দলের সমর্থনে এনসিপি সবাইকে অবাক করে দিয়ে ৬টি আসন নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেছে।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আপনারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেন। সাধারণ মানুষ ১১ দলকে যে ব্যাপক হারে ভোট দিয়েছিল, আমরা সেই ভোট ধরে রাখতে পারি নাই। সেই ভোট যদি আমরা সম্পূর্ণভাবে ধরে রাখতে পারতাম নির্বাচনের ফলাফল অন্যরকম হত।
যেটা জাতীয় নির্বাচনে আমরা পারি নাই সেটা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা করে দেখাতে চাই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি অংশগ্রহণ করবে, আপনারা সেটার জন্য প্রস্তুতি নেন।
স্পষ্ট করে বলতে চাই, আদালতকে যদি রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে নিজেদের দলীয় এজেন্ডার কারণে ব্যবহার করা হয়। চেষ্টা করা হয় তার পরিণতি খুবই করুণ হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কিন্তু এই একই প্রচেষ্টার মাধ্যমে কিন্তু তার পতন শুরু হয়েছিল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ফলে এখন যারা সরকারে আছেন আপনাদের প্রতি স্পষ্ট আহ্বান থাকবে, গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। এই গণরায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ, নতুন সরকারের ও সংসদের যাত্রা শুরু হোক।
ফ্যাসিস্টদের আস্ফালন চট্টগ্রামে কমে নাই। এনসিপি এবং পতিত আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট একসাথে থাকতে পারে না।
যে জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরু হবে, সেই জেলায় হয় আওয়ামী লীগ থাকবে নয় এনসিপি থাকবে।
আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম, এই আধিপত্যবাদ কেবল ভারতীয় আধিপত্যবাদ না। বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যে পরাশক্তিই যাবে সেই সকল আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই সংগ্রাম করে যাব।
তিনি বলেন,বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও আমেরিকার যে দ্বন্দ্ব, যেখানে মুসলিম বিশ্বের নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনিকে শহীদ করা হয়েছে, সেই প্রেক্ষিতে যে প্রেস রিলিজ দিয়েছে সেই প্রেস রিলিজ দেখে আমাদের খুবই কষ্ট লেগেছে। বাংলাদেশ আবার কোন নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবলে পড়লো কিনা সেই প্রশ্নও বাংলাদেশের জনগণ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টাকে। কেন তাকে দায়িত্ব দেয়া হলো? কোন পরাশক্তির স্বার্থ রক্ষার জন্য দায়িত্ব দেয়া হলো?
এই নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং এর পুরষ্কার হিসেবে দেয়া হলো কিনা, সেই প্রশ্ন আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়নি। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এই প্রশ্ন পরিষ্কার করবে এটা আমাদের প্রত্যাশা থাকবে।
রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



