সিটিজি নিউজ টুডে : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড কুরাংগিরি বিলে মো. হাসান বাবু (১৬) নামে এক কিশোর হত্যা মামলায় অপর আসামি মো. জয়নাল আবেদীন ওরফে লিমন (২০)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (১৬ মার্চ) ভোরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাটানো হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন লিমন।
এর আগে রবিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে শোভনদন্ডী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড কুরাংগিরি বিলে মহিষ চরানোকে কেন্দ্র করে হাসান বাবুকে মারধর করে গলা চেপে হত্যা করা হয়।
পরে তার লাশ পাশের একটি ঢালে ফেলে দেওয়া হয়। রাতে চৈতার মার খালের ঢাল থেকে হাসান বাবুর মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠায়।
পরে অভিযান চালিয়ে সোমবার ভোরে মূল আসামি জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে নিহতের মা মোছা. হাছিনা আকতার (৪৭) বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিদের সঙ্গে বাদীর দীর্ঘদিন যাবত পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ইতিপূর্বেও বিবাদীগন বাদীকে সহ তার ছেলে মৃত মো. হাসান বাবুকে একাধিকবার মারধরসহ হত্যার হুমকি প্রদান করে।
উক্ত বিষয়ে এলাকায় একাধিকবার শালিশ বৈঠক করলেও বিবাদীগন বাদীকে এবং তার ছেলেকে যে কোন স্থানে একা ফেলে খুন জখম করে লাশ গুম করবে মর্মে হুমকি প্রদান করে আসছে।
নিহত হাসান বাবু বিগত ৫ দিন যাবত তাদের গ্রামের জনৈক ফোরকান এর মহিষ পার্শ্ববর্তী বিলে লালন পালন (চড়ায়) করছিল।
প্রতিদিনের মতো গতকাল সকাল আনুমানিক ৭টার সময় ১১টি মহিষ নিয়ে কুরাংগিরি বিলের মধ্যে ঘাস খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যায়।
পটিয়া থানাধীন ১৯ (ক) নং শোভনদন্ডী ইউপির কুরাংগিরি সাকিনের ৯নং ওয়ার্ডস্থ বিলের মধ্যে চৈতার মার খালের নিকটবর্তী বিলের (মাঠে) মধ্যে ঘাস খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যায়।
সন্ধ্যায় ছেলে বাড়িতে ফিরে না আসায় বাদীসহ আশপাশের লোকজন ও তার নিকট আত্মীয় স্বজন তার ছেলে মো. হাসান বাবুকে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মাধ্যমে সন্ধান নেওয়ার চেষ্টা করে।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ৭টার সময় কুরাংগিরি চৈতার মার খালের ঢালের মো. হাসান বাবু এর শরীরে মাটি ও নাকে মুখে রক্ত মাখা ও গলায় একাধিক নখের জখম অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখতে পায়।
তখন তাদের শোরচিৎকারে আশপাশের লোকজন আসলে তাদের সহযোগীতায় বাদীর কিশোরের লাশ উদ্ধার করে বসত বাড়িতে নিয়ে আসে।
বাদী মোছা. হাছিনা আকতার জাানান, পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে বিবাদীগন সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন বিবাদীগন তাদের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আমার ছেলেকে ঘটনাস্থলে একা পেয়ে তাদের সকলের অগোচরে পরিকল্পতিভাবে একই উদ্দেশ্যে হত্যা করে ছেলের লাশ ফেলে রেখে বিবাদীগন পালিয়ে যায়।
পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা জানান, গ্রেপ্তার আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


