চট্টগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচনে জিতেও এমপি নন আসলাম চৌধুরী!

ঋণখেলাপির রায়ে নতুন প্রশ্ন

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬ ১৪:৩৪

নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই জয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার অধিকার এনে দিতে পারেনি।

ঋণখেলাপির অভিযোগে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তিনি সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-৪ আসনের ভবিষ্যৎ প্রতিনিধিত্ব নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার পর আপিলকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ঋণখেলাপি হওয়ায় আসলাম চৌধুরী এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না।

তার মতে, ঋণখেলাপিদের বিষয়ে এটি বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

এ রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো, ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন না।

তবে চট্টগ্রাম-৪ আসনের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি ওই আসনে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানান অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় দেশের সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক।

আদালত আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিতর্কের শুরু নির্বাচনের আগেই

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ সামনে আসে। তবে আপিল শুনানির শেষ দিনে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। পরে সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের পর হাইকোর্টও তার প্রার্থিতা বহাল রাখেন।

এরপর একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে নির্দেশ দেন, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে জয়ী হলেও আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত থাকবে।

মঙ্গলবার সেই আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ তার প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেন।

এখন নজর পূর্ণাঙ্গ রায়ে

এই রায়ের মাধ্যমে শুধু একজন প্রার্থীর নির্বাচনী ভবিষ্যৎ নয়, ঋণখেলাপিদের নির্বাচনী যোগ্যতা নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক দৃষ্টান্ত তৈরি হলো।

তবে চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নির্ধারিত হবে—দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি নতুন নির্বাচন হবে—সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে।

এ কারণে এখন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহল, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের ভোটারদের দৃষ্টি আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের দিকেই।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি