দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পথ সুগম হলো।
তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় দেন।
আদালতের এই আদেশের ফলে তাঁর শপথ নিতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
এর আগে রুল শুনানির প্রক্রিয়া শেষ করে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট।
আদালতে রিট আবেদনকারী সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
পেছনের গল্প: নির্বাচন থেকে আদালত পাড়া
গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সারোয়ার আলমগীর।
তবে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) শুরুতে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করেছিল।
নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সারোয়ার আলমগীর।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন এবং সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন।
তাঁর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ এক আদেশে জানান, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হলেও এই সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর আসনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
আপিল বিভাগের নির্দেশনা ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি
পরবর্তীতে গত ৩১ মার্চ জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন নিয়মিত আপিল দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ এক আদেশে হাইকোর্টকে দ্রুত-সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে-রুলটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন।
একই সাথে জানানো হয়, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিতের আদেশ বহাল থাকবে।
আপিল বিভাগের সেই নির্দেশনার পর গত ২১ জুন রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে।
ধারাবাহিক শুনানি শেষে আজ আদালত সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতাকে সম্পূর্ণ বৈধ বলে রায় দেন।
এই রায়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-২ আসনের ভোটারদের রায় ও সারোয়ার আলমগীরের বিজয়ের চূড়ান্ত আইনি স্বীকৃতি মিলল।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

