১২০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ভরপুর এক কোয়ার্টার ফাইনাল। শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডকে ৩–১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
আলবিসেলেস্তেদের জয়ে গোল করেছেন আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।
একটি গোল করিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি, যিনি পুরো ম্যাচজুড়েই আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন।
আরও পড়ুন
ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট গোল ডটকম এর ম্যাচ রেটিংয়ের ভিত্তিতে দেখে নেওয়া যাক, আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ।
গোলরক্ষক
সুইজারল্যান্ডের সমতাসূচক গোলটিতে তার করার তেমন কিছু ছিল না। তবে পুরো ম্যাচে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে একাধিকবার বিপদমুক্ত রাখেন এবং ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
রক্ষণভাগ
সেমিফাইনালে ওঠার পর কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, “আজ ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল।”
রক্ষণ ও আক্রমণ-দুই বিভাগেই ছিলেন অনন্য এক ডিফেন্ডার। ৩টি সফল ড্রিবল, ফাইনাল থার্ডে ৯টি পাস এবং ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স করে নজর কেড়েছেন।
রক্ষণের আরেক স্তম্ভও ছিলেন যথারীতি নির্ভরযোগ্য। ১০৬ মিনিটে বদলি হওয়ার আগে ৫টি বল পুনরুদ্ধার এবং ২টি ইন্টারসেপশন করেন।
একজন ফুল-ব্যাক রক্ষণ সামলানোর চেয়ে আক্রমণে ওঠার দিকেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। খুব বেশি প্রভাব ফেলতে না পারলেও কয়েকবার ফাউলের শিকার হয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেট-পিস আদায় করেন।
ডান প্রান্তে নিরলস পরিশ্রম করেছেন আরেক ডিফেন্ডার। ৮৫ মিনিট মাঠে থেকে ২টি বল রিকভারি এবং ২টি ক্লিয়ারেন্স করেন।
মাঝমাঠ
আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার দীর্ঘকায় সুইস ডিফেন্ডারদের টপকে দুর্দান্ত হেডে দলের প্রথম গোলটি করেন।
স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক খেললেও দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। তবু পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণে সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি ছিলেন।
মাঠের প্রতিটি অংশে নিজের উপস্থিতি জানান দেন আরেক মিডফিল্ডার। নিখুঁত পাসিংয়ে মাঝমাঠের ছন্দ ধরে রাখেন। ১১০ মিনিট মাঠে থেকে সর্বোচ্চ ১৩১ বার বল স্পর্শ করেন এবং ৪ বার বল পুনরুদ্ধার করেন।
পাসিংয়ে ছিলেন দারুণ নিখুঁত। একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি ২টি দূরপাল্লার থ্রু-পাসে সুইজারল্যান্ডের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন।
তবে রদ্রিগো দি পলের জন্য দিনটি খুব একটা সুখকর ছিল না। মাঝমাঠে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি। ৮৫ মিনিটে মাত্র ৪৮ বার বল স্পর্শ করেন এবং প্রতিপক্ষের গোলমুখে মাত্র দুটি কার্যকর পাস দিতে সক্ষম হন।
আক্রমণভাগ
নিজে গোল না পেলেও লিওনেল মেসির বুদ্ধিদীপ্ত কর্নার থেকেই আসে ম্যাচের প্রথম গোল। পুরো ১২০ মিনিটে ম্যাচসর্বোচ্চ ৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেন তিনি।
পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলমুখে ৪টি শট এবং ৩টি সফল ড্রিবল করে আবারও নিজের প্রভাবের ছাপ রাখেন।
হুলিয়ান আলভারেজ অবশেষে টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেলেন। ম্যাচের বেশির ভাগ সময় প্রতিপক্ষের রক্ষণে আটকে থাকলেও অতিরিক্ত সময়ের ১১২তম মিনিটে দুর্দান্ত এক রকেট শটে গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এটি তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম বিশ্বকাপ গোল।
লাউতারো মার্তিনেজ মাঠে ছিলেন মাত্র ৩৫ মিনিট। কিন্তু এতেই ম্যাচে নিজের ছাপ রেখে যান। ইনজুরি টাইমে দুর্দান্ত এক ফিল্ড গোল করে সুইজারল্যান্ডের শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেন। শুধু গোলই নয়, দলের জন্য আরও ২টি সুযোগও তৈরি করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত দলীয় নৈপুণ্য, মেসির নেতৃত্ব এবং বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকর অবদানে ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই জিতে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
এখন তাদের লক্ষ্য, আরেকটি বাধা পেরিয়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছানো।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

