২০২৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি এখনও তাজা, বুকজুড়ে কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও ফুটবল মাঠে নামলে তিনি যে অন্য গ্রহের মানব-তা আবারও প্রমাণ করলেন লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপের বিরতি কাটিয়ে ক্লাব ফুটবলে পা রাখতেই যেন চেনা রূপ ফিরে পেলেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে মায়ামির নু স্টেডিয়ামে লিগস কাপের রোমাঞ্চকর ম্যাচে মেক্সিকান ক্লাব অ্যাতলেটিকো দে সান লুইসকে ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত করেছে ইন্টার মায়ামি।
আর এই জয়ের কান্ডারি ছিলেন স্বয়ং দলনায়ক লিওনেল মেসি। দুর্দান্ত এক জোড়া গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসের এককভাবে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার (১৪ গোল) আসনে অধিষ্ঠিত হলেন।
ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরুটা মায়ামির জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। চতুর্থ মিনিটেই চার্লস ফার্নান্দেজের আকস্মিক গোলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। পিছিয়ে পড়ার চাপ বেশি সময় স্থায়ী হতে দেননি মেসি। ১১তম মিনিটে নোয়া অ্যালেনের নিখুঁত পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে সমতায় ফেরান এলএমটেন (১-১)।
চালকের আসনে ফিরে আসে ইন্টার মায়ামি। তেলাসকো সেগোভিয়ার দারুণ এক গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি (২-১)। অ্যালেনের বাড়ানো অ্যাসিস্ট থেকে নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে বক্সে বল পান মেসি, সেখান থেকেই জালের ঠিকানা খুঁজে নিয়ে করেন নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে তৃতীয় গোল (৩-১)।
এই গোলটির মাধ্যমেই লিগস কাপের ইতিহাসে ডোনিস বুয়াঙ্গাকে পেছনে ফেলে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার শিখরে ওঠেন তিনি। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে মেসির নিখুঁত কর্নার কিক থেকে হেড করে ব্যবধান ৪-১ করেন মিকায়েল দোস সান্তোস।
বিরতির কিছু আগে মেক্সিকান ক্লাব সান লুইস একটি গোল শোধ করলে ৪-২ স্কোরে বিরতিতে যায় দু’দল।
দ্বিতীয় অর্ধে মুষলধারে বৃষ্টি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছুক্ষণ ম্যাচ স্থগিত রাখতে হয়েছিল। বৃষ্টি থামার পর খেলা শুরু হলে দু’দলের কেউই আর গোল করতে পারেনি। ফলে প্রথম অর্ধে তৈরি হওয়া ৪-২ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়েই হাসিমুখে মাঠ ছাড়ে ইন্টার মায়ামি।
সম্প্রতি সমাপ্ত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে রেকর্ড ৮টি গোল করেছিলেন মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সেই দুর্দান্ত ফর্ম ক্লাব ফুটবলেও ধরে রেখে ৩৯ বছর বয়সে দাঁড়িয়েও প্রমাণ করছেন-বয়স কেবলই একটি সংখ্যা!
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

