চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোড এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার প্রায় ৪০ জনের একটি মুখোশধারী দল ‘ডিজিটাল ডটনেট’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে এই তাণ্ডব চালায়।
ঘটনার নেপথ্যে প্রায় দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির একটি অভিযোগের কথা মুখে মুখে ফিরলেও, এ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার চন্দনপুরা এক্সেস রোড এলাকায় চারপাশ যখন শান্ত, ঠিক তখনই হঠাৎ লাঠিসোঁটা ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রায় ৪০ জন মাস্ক পরা ব্যক্তি ডিজিটাল ডটনেটের কার্যালয়ে অতর্কিতে প্রবেশ করে।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ভেতরের আসবাবপত্র, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সরবরাহের বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করতে শুরু করে।
হামলাকারীদের তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পুরো কার্যালয়। এতে প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু ভাঙচুরই নয়, কার্যালয়ে উপস্থিত কর্মীদেরও নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সশস্ত্র দলটি।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র দাবি করেছে, এই আকস্মিক হামলার পেছনে রয়েছে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন বা চাঁদার দাবি। কিছুদিন ধরে একটি পক্ষ প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রায় দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।
দাবিকৃত বিপুল অঙ্কের এই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জের ধরেই এই পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
তবে কোনো পক্ষ থেকেই এখনো এই চাঁদার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত চন্দনপুরার ওই কার্যালয় পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাবিবুর রহমান এবং চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন।
তারা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বরত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটাল ডটনেট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কোনো এক অজানা আতঙ্কে তারা এখনই গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি।
তবে ভেতরের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে উঠে তারা এখন থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা, কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।”
হামলার ঘটনায় ওই এলাকার অন্যান্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে চন্দনপুরা এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশ নিরাপদ রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


