প্রতিদিনের মতোই শুরু হয়েছিল রুটি-রুজির চাকা ঘোরানোর লড়াই। লবণের কারখানায় কর্মব্যস্ত শ্রমিকদের ঘামে ভেজা শরীরে হঠাৎই হানা দিল এক নির্মম নিয়তি।
চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার একটি লবণ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন ১০ জন শ্রমিক।
বর্তমানে তাঁরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় অবস্থিত ‘কনফিডেন্স লবণ কারখানায়’ এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কারখানায় তখন লোহার ঝালাইয়ের কাজ চলছিল।
হঠাৎ করেই বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দুর্ভাগ্যবশত, ঠিক পাশেই রাখা ছিল কাগজের স্তূপ।
ফলে স্ফুলিঙ্গ লাগামহীন আগুনে রূপ নিতে এক মুহূর্তও সময় নেয়নি। তবে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের তৎপরতায় ইতিমধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলা উদ্দিন জানান, ঘটনার পরপরই দগ্ধ ১০ শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসকেরা তাঁদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে কয়েকজনের শরীরের সিংহভাগ দগ্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি বেশ আশঙ্কাজনক।
আগুনের লেলিহান শিখায় ঝলসে যাওয়া হতভাগ্য শ্রমিকেরা হলেন-বোয়ালখালীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দিদারুল আলম (৩২), রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকার উজ্জ্বল দাশ (৫৩), চট্টগ্রাম নগরের মাদারবাড়ি এলাকার মোহাম্মদ লিটন (২৮), লোহাগাড়ার চুনতীর সিরাজুল ইসলাম (৩৪), রাউজানের মোহাম্মদপুর এলাকার জাহিদুল আলম (৪২), বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার জাহিদ হোসেন (৩৮), বোয়ালখালীর চর খিজিরপুর এলাকার নূর নবী (২৫), পটিয়ার হোলাইন এলাকার মোহাম্মদ আলম (৪৫), পটিয়ার শান্তিহাট এলাকার মাহামুদুল হক (৪৫) এবং চন্দনাইশের কাঞ্চননগর এলাকার সেলিম উদ্দিন (৩০)।
কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও এই দুর্ঘটনার পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

