আইসিইউতে নিভল কনফিডেন্স লবণ কারখানার দুই শ্রমিকের জীবন!

বার্ন ইউনিটে লড়ছেন আরও ৪ জন

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৩৯

সংসারের অভাব মেটাতে প্রতিদিনের মতো সকালেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু কে জানত, সেই কর্মস্থলই হয়ে উঠবে জীবনের শেষ সীমানা।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি লবণ কারখানায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তারা।

নিহত দুই শ্রমিক হলেন-পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের হুলাইন এলাকার মো. নুরুল আলম এবং বোয়ালখালী উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দিদারুল আলম (৩২)।

তারা দুজনেই বোয়ালখালীর ‘কনফিডেন্স লবণ কারখানা’র নিয়মিত শ্রমিক ছিলেন।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কনফিডেন্স লবণ কারখানায় আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কারখানার ভেতরে থাকা ১০ জন শ্রমিক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।

চিৎকার ও হুড়োহুড়ির মধ্যে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে দুজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি আটজনের মধ্যে আরও চারজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

তারা বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। বাকিদেরও সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বার্ন ইউনিটের বাইরে এখন স্বজনদের আহাজারি আর উৎকণ্ঠায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের বাতাস।

কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানায় কাজ করার সময় ওয়েল্ডিং মেশিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে এর পেছনে কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লবণের কারখানায় কাজ করে নুন-ভাতের জোগান দেওয়া এই দুই শ্রমিকের আকস্মিক মৃত্যুতে তাদের পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকার।

একদিকে দুই কর্মক্ষম মানুষকে হারানোর শোক, অন্যদিকে হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা অন্য শ্রমিকদের পরিবারের উদ্বেগ-সব মিলিয়ে পুরো এলাকায় এখন শোকের ছায়া।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি