চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকায় এক ১৩ বছরের হেফজ পড়ুয়া ছাত্রকে মাসের পর মাস ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বলাৎকার করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি-ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষককে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মোঃ রফিকুল ইসলাম (২৮)। তিনি বান্দরবান জেলার লামা থানার কেয়াজু পাড়া এলাকার মোঃ একরামের ছেলে এবং চান্দগাঁও বাহির সিগন্যাল বেপারী পাড়ার ‘শ্যামলী আবাসিক মদিনা মনোয়ারা সুন্নিয়া মাদ্রাসা ও হেফজখানা’র হেফজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন
মামলার বিবরণ ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শিশু জাহেদুল আলম জিহাদ (১৩) উক্ত প্রতিষ্ঠানের হেফজখানার একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টায়। পড়ালেখা শেষে নিজের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যান শিক্ষক রফিকুল।
সেখানে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক প্রথমবার বলৎকার করা হয়। প্রকাশ করলে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে-এমন হুমকিতে শিশুটি এতদিন মুখ খোলেনি।
ভীতিকে পুঁজি করে পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার শিশুটির ওপর একই ধরণের নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন এই শিক্ষক।
দীর্ঘদিনের এই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চরম রূপ নেয় গত ৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে।
পুনরায় নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে ভয় কাটিয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত নেয় ১৩ বছরের শিশুটি এবং পুরো ঘটনা তার পরিবারকে বিস্তারিত জানায়।
ঘটনার তীব্রতায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে পরিবার। ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গত ১৮ জুলাই চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন-২০২৫)-এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩০)।
মামলা হওয়ার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি থেকে তিনি রেহাই পাননি।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি চৌকস আভিযানিক দল সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে চান্দগাঁও থানাধীন বাহির সিগন্যাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি রফিকুলকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে চান্দগাঁও থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তায় র্যাবের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

