ভারতে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন ও অবৈধ অবস্থানের অভিযোগে পৃথক ঘটনায় একাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজধানী নয়াদিল্লি ও আসাম রাজ্যে চালানো পৃথক দুই অভিযানে তাদের আটক করেছে দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফ। গত রবিবার দিল্লির বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, আটক ব্যক্তিরা ডাবল-এন্ট্রি ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তবে ভিসার শর্তানুযায়ী প্রতি সফরে সর্বোচ্চ ১৫ দিন অবস্থানের সুযোগ থাকলেও তারা সেই সময়সীমা অতিক্রম করে ভারতে অবস্থান করছিলেন।
পাসপোর্টের নথি ও ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের পর ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (FRRO) মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে জারি করা হয়েছে দেশে ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ। বর্তমানে তাদের ‘সেবা ধাম’ ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আসাম পুলিশ দুই নারীসহ ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকা থেকে আটক করে পরবর্তীতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে।
তবে ঠিক কোন সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও সীমান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আসাম পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে প্রায় ১৬৭ জন বাংলাদেশিকে আটক করে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অবৈধ পারাপার ও অবস্থান রোধে আসাম সংলগ্ন প্রায় ১,৮৮৫ কিলোমিটার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) এবং আসাম পুলিশের যৌথ টহল ও নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। (সূত্র: দ্য প্রিন্ট)

