আর্তপীড়িত মানুষের সেবায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল, হাত বাড়াল পুনর্বাসনেও

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৪১

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় যখন বিপন্ন বহু মানুষের জীবন ও জীবিকা, ঠিক তখনই দুর্গতদের মুখে হাসি ফোটাতে ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এগিয়ে এসেছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)।

প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারের ত্রাণ তহবিলে।

আজ ১০ আগস্ট (সোমবার) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের কাছে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন সিইআইটিসি’র ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ.এম. অহিদুল আলম।

চেক প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির মেডিকেল ডিরেক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব হোসেন।

প্রতিষ্ঠানটি কেবল চিকিৎসাসেবার মাঝেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি, সামাজিক এই মহা সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজেদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছে।

অনুদানের চেক তুলে দিয়ে সিইআইটিসির ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ.এম. অহিদুল আলম অত্যন্ত দরদী কণ্ঠে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগ লাঘবে আমাদের এই সামান্য চেষ্টা। এটি কেবল একটি আর্থিক সহায়তা নয়, বরং বিপর্যস্ত মানুষের প্রতি আমাদের গভীর দায়বদ্ধতারই প্রত্যক্ষ বহিঃপ্রকাশ।

সংকট কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনের ফেরার আশা ব্যক্ত করে হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব হোসেন বলেন, বিপদ যত বড়ই হোক না কেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে তা অতিক্রম করা অসম্ভব নয়।

আমরা বিশ্বাস করি, সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে আমরা খুব শীঘ্রই সকল ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ক্ষতিগ্রস্তদের সাধারণ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব।

বেসরকারি খাত থেকে পাওয়া এই আন্তরিক সহায়তাকে স্বাগত জানান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

সিইআইটিসি-র প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি খাতের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের জাতীয় শক্তি ও সাহসকে আরও সুসংহত করে।

বন্যায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, বন্যার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার প্রথম দিন থেকেই সর্বাত্মক তৎপর রয়েছে। ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে পুনর্বাসন-সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের এই উদ্যোগ বন্যাকবলিত মানুষের কাছে সঠিক সময়ে সহায়তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের মতো অন্যান্য সামাজিক ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি