আর চুরি করব না: তওবা পড়িয়ে ও নামাজ আদায় করিয়ে ছাড় পেলেন ৩ চোর

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১৮

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সিএনজি অটোরিকশা চুরির অভিযোগে আটক হওয়া তিন ব্যক্তিকে মারধর না করে অনন্য এক উপায়ে ছেড়ে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

পুলিশকে না জানিয়ে কিংবা হিংস্রতা না দেখিয়ে তাঁদের তওবা করানো হয়েছে এবং আদায় করানো হয়েছে ১০০ রাকাত নফল নামাজ

ঘটনাটি ঘটার পর এলাকা জুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতুহল তৈরি হয়েছে।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে উপজেলার মিঠাছড়া বাজারের গাংচিল ফিলিং স্টেশন এলাকায় ঘটে এই অদ্ভুত অথচ ব্যতিক্রমী ঘটনাটি।

আটক ব্যক্তিরা হলেন বারইয়ারহাট এলাকার বেলাল হোসেন ও পূর্ব মোটবাড়িয়া এলাকার রিফাত হোসেন। তাঁদের সাথে থাকা অপরজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ঘটনার নেপথ্যে যা ছিল স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন দিন আগে মিঠাছড়া বাজার এলাকা থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা চুরি হয়।

চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয়রা নিজেরাও সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখেন।

ফুটেজের সাহায্যে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে বুধবার রাতে ওই চক্রের তিন সদস্য পুনরায় ওই এলাকায় এলে স্থানীয়রা তাঁদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

তবে দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনির যে প্রবণতা প্রায়শই দেখা যায়, সেখানে এটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। মারধর বা পুলিশে দেওয়ার বদলে আয়োজকরা তাঁদের আত্মশুদ্ধির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আটক ব্যক্তিদের আর কখনও এই ধরনের অপরাধে জড়াবেন না মর্মে প্রথমে তওবা পড়ানো হয়।

এরপর অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত ও আত্ম প্রতিফলনের অংশ হিসেবে তাঁদের ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে দেওয়া হয়। নামাজ আদায় শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

মারধর নয়, সংশোধনের সুযোগ এই উদ্যোগের পেছনে থাকা স্থানীয় যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন বাবু বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ দিতে এবং তাঁদের কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন না করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শারীরিক আঘাত করার চেয়ে আত্মিক অনুশোচনা অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা সুজন বলেন, অপরাধীদের আটক করার পর আমরা তাঁদের গায়ে হাত না তুলে, মারধরের বদলে তওবা ও নামাজ আদায়ের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, যাতে তাঁরা সত্যি সত্যি অনুতপ্ত হন।

পুলিশ যা জানাচ্ছে তবে স্থানীয়ভাবে সমাধান হওয়া এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানে না বলে জানিয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মিঠাছড়া এলাকায় চোর আটক করে তওবা বা নামাজ পড়ানোর বিষয়ে আমরা অবগত নই। এই ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি।

আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে অহিংস পন্থায় অপরাধীদের ফেরানোর স্থানীয়দের এই উদ্যোগ ইতিবাচক মানবিক বার্তা দিলেও, আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে এমন সমাধান নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি