বৈরী আবহাওয়ার কবলে চট্টগ্রামে রানওয়ে ছুঁতে না পেরে ফিরল ৩ ফ্লাইট

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৪০

আকাশজুড়ে ঘন কালো মেঘের আনাগোনা, সাথে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা দমকা হাওয়া। নিচে রানওয়ে ভিজিয়ে নামছে শ্রাবণের রেকর্ডভাঙা ধারা।

প্রকৃতির এমন রুদ্ররূপের সামনে আজ অসহায় হয়ে পড়ল যান্ত্রিক পাখিরা। অতি ভারী বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেনি তিনটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট

চরম উৎকণ্ঠার পর শেষমেশ তাদের নিরাপদ আশ্রয় নিতে হয়েছে ঢাকার আকাশে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছেন।

আকাশের বুকে উৎকণ্ঠার সেই মুহূর্তগুলো বিমানবন্দর সূত্র জানায়, প্রবাসীদের নিয়ে আবুধাবি থেকে ছুটে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ‘বিএস-৩৫০’ এবং শারজাহ থেকে আসা এয়ার এরাবিয়ার ‘জি-৯৫২৬’ ফ্লাইট দুটি নিয়মানুযায়ী চট্টগ্রামেই অবতরণ করার কথা ছিল।

কিন্তু রানওয়ের কাছাকাছি এসেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অবতরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পাইলটরা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে ফ্লাইট দুটিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যান।

একই ভাগ্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদেরও। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বাংলাদেশ বিমানের ‘বিজি-১২১’ ফ্লাইটটি চাটগাঁর আকাশে এসেও রানওয়ে স্পর্শ করতে পারেনি।

বৈরী প্রকৃতির বাধায় বুকভরা আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা নিয়ে ফ্লাইটটি আবার ঢাকায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

আকাশেও সময়ের কাঁটায় টানাপোড়েন এদিকে শুধু অবতরণই নয়, ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক সময়সূচিও।

বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও চট্টগ্রাম থেকে নির্ধারিত সব ফ্লাইট কোনোমতে ছেড়ে যেতে পেরেছে।

তবে আগমন ও প্রস্থান। উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিটি ফ্লাইটে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে।

রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিতে ভাসছে পতেঙ্গা পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে এক অভাবনীয় তথ্য।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে রেকর্ড করা হয়েছে অবিশ্বাস্য ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত! আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলেই তাকে ‘অতি ভারী বৃষ্টি’ বলা হয়।

সেই হিসেবে চাটগাঁর মাটিতে আজ যা ঝরেছে, তা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

প্রকৃতির এই অমোঘ নিয়মের কাছে আজ কিছুটা থমকে গেছে চাটগাঁর আকাশপথ। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, সমস্ত প্রতিকূলতার মাঝেও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ও বৈমানিকদের তাৎক্ষণিক ও সঠিক সিদ্ধান্তে এড়ানো গেছে বড় কোনো দুর্ঘটনা।

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিরাপদে ডাইভার্ট করা গেছে প্রতিটি ফ্লাইট। প্রকৃতির এই বৈরী রূপ কেটে গিয়ে দ্রুতই আবার চাটগাঁর আকাশে ডানা মেলবে শঙ্খচিলেরা। এই প্রত্যাশাই সবার।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি