মৃত্যুর ঠিকানায় একি যাত্রা! পতেঙ্গায় মোটরসাইকেল-ট্রাক সংঘর্ষে ঝরল দুই প্রাণ

প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৬

রাত তখন সাড়ে ৯টা। পরিচিত লিংক রোডের চারপাশ ঘিরে রাতের নিস্তব্ধতা নামছিল মাত্র।

মোটরসাইকেলের হর্ন আর তিন তরুণের গুঞ্জন চিরে হঠাৎ এক বিকট শব্দ-মুহূর্তেই সব চুপচাপ।

যে সড়ক দিয়ে একটু আগেও পতেঙ্গার দিকে ছুটে চলছিলেন তিন বন্ধু, সেই সড়কের পিচ ঢালা পথ রাঙিয়ে দিল তাদের রক্তে।

ঘাতক ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ কেড়ে নিল দুটি তরতাজা প্রাণ, সংকটের মুখে ঠেলে দিল আরও একটি জীবন।

বৃহস্পতিবার রাতের এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান উত্তর পতেঙ্গার ওয়াসা গলির হোসেন আহম্মদ পাড়ার আবু সিদ্দিকের ছেলে মোহাম্মদ শাহিন ইসলাম (১৮) এবং পতেঙ্গার হাজি আলা মিয়া বাড়ির মো. আবদুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (২২)।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন ২১ বছর বয়সী তরুণ আনিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলযোগে পতেঙ্গার দিকে যাচ্ছিলেন এই তিন তরুণ। লিংক রোডের মুসলিমাবাদ পয়েন্টে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া ট্রাকের সাথে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

প্রচণ্ড ধাক্কায় বাইক থেকে ছিটকে পড়েন তারা। আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলেও শাহিন ও আতিকের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।

পতেঙ্গা থানার এসআই আবদুর রাজ্জাক জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহিন ও আতিককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মৃত দুই তরুণের মরদেহ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনকভাবে আহত আনিক বর্তমানে চমেক হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

যে বয়সে চোখে হাজারো স্বপ্ন আর বুকভরা রঙিন আশা নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা, সেই বয়সেই সড়ক কেড়ে নিল শাহিন আর আতিকের প্রাণ।

এক নিমেষের দুর্ঘটনায় দুটি পরিবারের রঙিন স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল লিংক রোডের কঠিন পিচে। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি