প্রকৃতি বাঁচিয়ে শিল্পায়ন: পরিবেশবান্ধব নগর গড়তে চউক প্রধানের বিশেষ পরামর্শ

প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:০১

উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংসের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের নতুন মডেল গড়ে তোলার সময় এসেছে।

চট্টগ্রামের বিকাশমান শিল্পখাতকে আধুনিক, সম্পদ-সাশ্রয়ী এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর করার জোরালো বার্তা দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

রবিবার (৯ আগস্ট) উত্তর পাহাড়তলীস্থ ইস্পাহানি কমপ্লেক্সের পিটিএল ট্রেনিং সেন্টারে পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেডের বিশ্বখ্যাত ‘লিড প্লাটিনাম’ (LEED Platinum) সনদ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল’ (USGBC) কর্তৃক প্রদত্ত এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে চট্টগ্রামে সবুজ ও টেকসই শিল্পায়নের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন চউক চেয়ারম্যান।

শিল্পমালিকদের উদ্দেশ্যে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেশের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য, তবে তা কোনোভাবেই সবুজ প্রকৃতি ও গাছপালা ধ্বংস করে হওয়া উচিত নয়। প্রকৃতিকে অক্ষুণ্ন রেখেই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আধুনিক ও টেকসই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শক্তি হওয়া উচিত বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির কার্যকর ব্যবহার। এটি কেবল পরিবেশ রক্ষাই করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও ব্যয় কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরের ঐতিহাসিক দিনেই পাহাড়তলী টেক্সটাইলসের এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন পুরো চট্টগ্রামের শিল্পখাতের জন্য একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

চউক চেয়ারম্যান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চট্টগ্রামকে যদি সত্যিক অর্থেই একটি আধুনিক, সবুজ ও বাসযোগ্য শিল্পনগরী হিসেবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে হয়, তবে চট্টগ্রামের প্রতিটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পাহাড়তলী টেক্সটাইলসের এই পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন মডেল’ অনুসরণ করতে হবে।

পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়েই নিশ্চিত হতে পারে শিল্প ও প্রকৃতির কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি