জাল দলিলের ফাঁদে কোটি টাকা হাওয়া: কারাগারে সাবেক সার্ভেয়ার নুর চৌধুরী

উত্তর পতেঙ্গার জমি, জাল রেকর্ড আর কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ!

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৪৫

জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল আদালতে, অথচ সরকারি কোষাগার থেকে ভুয়া কাগজের ওপর ভর করে উধাও হয়ে গেল সোয়া কোটি টাকারও বেশি অর্থ!

চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর পতেঙ্গা মৌজার এক অধিগ্রহণ মামলায় জালিয়াতির মাধ্যমে ১ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ২৭০ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শেষ পর্যন্ত রেহাই পেলেন না মূল অভিযুক্তদের একজন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সাবেক সার্ভেয়ার মো. নুর চৌধুরী (৫২)।

তবে আবেদনের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আসামি নুর চৌধুরী পটিয়া থানার পাইরল এলাকার মৃত আহম্মদ হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি প্রেষণে মিরসরাই ভূমি অফিসে কর্মরত থাকলেও জালিয়াতির ঘটনার সময় তিনি এলএ শাখার দায়িত্বে ছিলেন।

যেভাবে জাল জালিয়াতির ফাঁদ পাতা হয়
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে। চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর পতেঙ্গা মৌজায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ০৬/২০১৩-১৪ নম্বর মামলাটি নথিভুক্ত হয়। কিন্তু প্রকৃত মালিকদের বঞ্চিত করে একদল অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তৈরি করা হয় ভুয়া রেকর্ডপত্র।

জমি নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করেই ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড় করার পক্ষে সুপারিশ জমা দেন সার্ভেয়ারসহ সংশ্লিষ্টরা।

ওই বিতর্কিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সরকারি কোষাগার থেকে তুলে নেওয়া হয় বিপুল পরিমাণ এই অর্থ।

দুদকের জালে ১৯ জন
অনুসন্ধান শেষে জাল জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পেয়ে চট্টগ্রাম দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।

তদন্ত শেষে এলএ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি বর্তমানে চার্জ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। আসামির জামিন আবেদন শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

বিপুল এই অর্থ আত্মসাতের চক্রান্তে জড়িত অন্যান্য আসামিদের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর সচেতন মহলের।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি