তিন দশক আগের এক মর্মান্তিক আর রহস্যঘেরা মৃত্যুর কালো মেঘ আবার নতুন করে ঘনীভূত হতে শুরু করেছে দেশের বিনোদন অঙ্গনে।
৯০ দশকের স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ (মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) হত্যা মামলায় ইমিগ্রেশন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের ভাগ্যে মিলল না তাৎক্ষণিক স্বস্তি।
কারাগারে যাওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় ডনের পক্ষের করা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে ডনের আইনজীবী এম ফরিদুল ইসলাম ও তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ একদল আইনজীবী তার জামিনের পক্ষে জোর আবেদন জানান।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রের পক্ষে তীব্র বিরোধিতা তুলে ধরেন পাবলিক প্রসিউকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।
উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষ করে আদালত জামিন নামঞ্জুরের চূড়ান্ত আদেশ জারি করেন।
খবরটি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান।
খলনায়ক হিসেবে রূপালী পর্দায় নাম কামানো ডনের সৌদি আরবে ওমরাহ পালনে যাওয়ার কথা ছিল গত ৯ আগস্ট (রবিবার)।
তবে বিমানবন্দর পার হওয়ার আগেই বাঁধ সাধে সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে দেওয়া বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা।
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সংকেত পেয়ে সিআইডি (CID) তাকে তৎক্ষণাৎ হেফাজতে নেয় এবং গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
জামিন আবেদনে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, মূল এজাহার এবং গ্রেপ্তারি ফরওয়ার্ডিং নথিতে ডনের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট বা প্রত্যক্ষ অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি কথিত এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না দাবি করে জামিনের আরজি জানানো হয়।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দেখায়, দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার এই রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের সত্য উদঘাটনে আসামি ডনের উপস্থিতির গুরুত্ব অপরিসীম।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসায় রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারান অমর নায়ক সালমান শাহ।
তৎকালীন সময়ে সেটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ-এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
বছরের পর বছর নানা তদন্ত ও বাঁক পরিবর্তনের পর, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় ১১ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন।
সেই মামলার চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন সালমানের তৎকালীন স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খল অভিনেতা ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর নতুন করে শুরু হওয়া এই আইনি লড়াই দেশের কোটি সিনেমাপ্রেমী ও সালমান ভক্তদের দৃষ্টি এখন আদালতের কাঠগড়ায় এনে দাঁড় করিয়েছে। আদালতের আজকের সিদ্ধান্তের পর জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

