চুয়েটের পুকুর নাকি মৃত্যুকূপ? ১৫ দিনে ৩ প্রাণপ্রদীপ নিভে স্তব্ধ ক্যাম্পাস

আনন্দ করতে নেমে মর্মান্তিক পরিণতি

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৫৮

আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গেল কান্নায়। সাঁতারের আনন্দ আর প্রতিযোগিতা যেখানে বন্ধুদের হাসি-ঠাট্টায় মুখরিত হওয়ার কথা ছিল, সেখানেই নেমে এলো নিস্তব্ধ শোক।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কাজী নজরুল ইসলাম হল ও শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের মধ্যবর্তী পুকুরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন দুই মেধাবী শিক্ষার্থী।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। প্রাণ হারানো দুই শিক্ষার্থী হলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অর্ণব চন্দ (২২) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শান্ত দেব (২৩)।

দুজনেই ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং দুজনেরই বাড়ি সিলেট জেলায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের বিবরণ অনুযায়ী, দুপুরে একপর্যায়ে অর্ণব ও শান্ত উল্লাসে মেতে ওঠেন এবং পুকুরের দুই পাশ থেকে সাঁতরে পার হওয়ার এক প্রতিযোগিতায় নামেন।

কিন্তু পুকুরের মাঝপথে পৌঁছাতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে শরীর। পানিতে টিকে থাকার আকুল চেষ্টায় একজন অন্যজনকে আঁকড়ে ধরেন, আর মুহূর্তের মধ্যেই দুজন একসাথে পানির অতল গহ্বরে তলিয়ে যান।

ঘটনাটি দৃশ্যমান হতেই পুকুরপাড়ে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা জীবন বাজি রেখে পানিতে নেমে পড়েন। তারা দ্রুততম সময়ে অর্ণব চন্দকে উদ্ধার করতে পারলেও শান্ত দেবকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধাকারী দল এসে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শান্ত দেবের অচেতন দেহ উদ্ধার করে।

দুজনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় তড়িঘড়ি করে চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার আকস্মিকতায় ক্যাম্পাসে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের আগুনও জ্বলছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আকুল আবেদনের পর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ মিনিট দীর্ঘ সময় পার করে দেয়। যদি উদ্ধারকারী দল আরও কয়েক মিনিট আগে পৌঁছাত, তবে হয়তো শান্ত দেবকে বাঁচানো সম্ভব হতো-এমনটাই মনে করছেন শোকস্তব্ধ সহপাঠীরা।

ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা হাসপাতালে অবস্থান করছি। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন দুজনই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

একই পুকুরে ১৫ দিনে ৩ প্রাণ:

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মাত্র কয়েকদিন আগেই-গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায়-ঠিক একই পুকুরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছিলেন অর্ণব সাহা নামের চুয়েটের অপর এক শিক্ষার্থী, যার বাড়ি ছিল ফেনী জেলায়।

একই পুকুর মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে কীভাবে ৩টি তাজা প্রাণ কেড়ে নিল, তা নিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নেমে এসেছে গভীর আতঙ্ক ও শোকের কালো ছায়া।

প্রিয় সহপাঠীদের এমন অকাল প্রস্থানে পুরো চাটগাঁর বুক যেন এক নীরব দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি