চুয়েট হল ক্যানটিনে তেহারিতে মিলল ইটের টুকরা,তালা ঝুলিয়ে দিলেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:১৩

ক্যাম্পাস জীবনের অন্যতম ভরসার জায়গা হলের ক্যানটিন। সারাদিনের ক্লাস, ল্যাব আর মানসিক ক্লান্তি শেষে এক লোকমা গরম ভাত কিংবা তেহারিতেই ক্ষুধা মেটান আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু সেই খাবারের থালায় যদি চাল-মাংসের বদলে মিলিয়ে যায় ইটের টুকরা, তবে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটাই স্বাভাবিক।

ঠিক এমনই এক অনাকাঙ্খিত ও গা রিউরিউ করা ঘটনার সাক্ষী হলো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শহীদ আবু সাঈদ হল।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ক্যানটিনের তেহারিতে ইটের টুকরা পাওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা নিম্নমানের খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রতিবাদে শেষমেশ ক্যানটিনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

ধারাবাহিক অনিয়মের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যানটিনের খাবারের নিম্নমান নিয়ে ক্ষোভ নতুন নয়। এর আগেও বহুবার খাবারের মধ্যে মরা পোকামাকড় ও পাটের বস্তার সুতা পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।

আধা-কাঁচা চিকেন ফ্রাই পরিবেশন, পচা ও নষ্ট আটা দিয়ে পরোটা বানানো এবং আগের দিনের অবিক্রিত পরোটা, শিঙাড়া ও পেঁয়াজু বাসি অবস্থায় পরদিন পুনরায় গরম করে বিক্রি করার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ কাজ নিয়মিত করে আসছিল ক্যানটিন কর্তৃপক্ষ।

সবশেষ মঙ্গলবার রাতে তেহারি খাওয়ার সময় এক শিক্ষার্থীর মুখে ইটের টুকরা ঠেকলে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে সবার।

একই সাথে ক্যানটিনের রান্নাঘর ও চা তৈরির স্থানে চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিদ্যমান বলে জানান তারা। বারবার হল প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় বাধ্য হয়েই ক্যানটিন বন্ধের চরম সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট ৫ দফা দাবি:

মানসম্মত ও নিরাপদ খাবারের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত ক্যানটিন খুলতে দেবেন না জানিয়ে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি জরুরি দাবি উত্থাপন করেছেন।

১. সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করতে হবে। ২. হল প্রশাসন বা ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত স্পষ্ট মূল্যতালিকা প্রকাশ ও তা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩. নোংরা রান্নাঘর ও চা তৈরির স্থান দ্রুত সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। ৪. খাবারের মান ও দাম নিয়মিত তদারকি করতে হবে।৫. শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, হল প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি কার্যকর মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে।

প্রশাসনের অবস্থান

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শহীদ আবু সাঈদ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আজাদ হোসাইন স্পষ্ট জানিয়েছেন, খাবারের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

তিনি বলেন, ক্যানটিন পরিচালকদের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ এসেছিল। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের প্রেক্ষিতে আপাতত ক্যানটিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আমি নিজে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করব। ক্যানটিন কর্তৃপক্ষ যদি শতভাগ মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করতে পারে, তবেই কেবল এটি পুনরায় চালুর অনুমতি পাবে।

ক্যাম্পাসে নিরাপদ খাবারের অধিকার আদায়ে শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান এখন চুয়েটের প্রধান আলোচনার বিষয়।

এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও ক্যানটিন কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে মানসম্মত খাবারের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারে কি না।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি