সচিবের মুখে হাসিনার প্রশংসা,অডিও ঘিরে চসিকে তোলপাড়

কণ্ঠ কার, কথা কার-ঘুরপাক খাচ্ছে একাধিক প্রশ্ন?

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ০২:১১
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসনিক অলিন্দে এখন চাপা গুঞ্জন আর গভীর অস্থিরতা। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চসিকের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৪৮ সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড।
অডিওটিতে শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা এবং তার ‘বিকল্প নেই’-এমন মন্তব্য শোনা যায়।

গুঞ্জন রয়েছে, বক্তব্যটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোর। তবে অপর প্রান্তে কে ছিলেন বা এটি ঠিক কবে রেকর্ড করা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিতর্কের মুখে আশরাফুল আমিন সংক্ষিপ্ত বার্তায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে দাবি করেছেন, এটি শুনলেই বোঝা যায়, বক্তব্য আমার না।

কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত অস্বীকার চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চায়ের টেবিলের ঝড় থামাতে পারেনি।

প্রশাসনের দুই পদে একক আধিপত্য: 

দীর্ঘদিন ধরে চসিকে কোনো স্থায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নেই। এই শূন্যতার সুযোগেই সচিবের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার গুরুদায়িত্ব পালন করছেন আশরাফুল আমিন।

চসিকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ একহাতে থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৈরি হয়েছে একক প্রভাবের ছায়া।

একটি সেবামূলক সংস্থার দুটি শীর্ষ চাবি এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় চসিকের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নিয়ে ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এটিই প্রথম নয়, চসিকে যোগ দেওয়ার আগেও আশরাফুল আমিনের প্রশাসনিক পথচলা খুব একটা বিতর্কমুক্ত ছিল না।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ‘এটুআই’ প্রকল্পে স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল।

সংস্থাটিতে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নথিবদ্ধ হওয়া অভিযোগগুলো এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি। এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তার পিছু ছাড়েনি।

একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও সচিবের দায়িত্ব যেখানে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রতীক হওয়ার কথা, সেখানে বারবার বিতর্ক আর অডিও-কাণ্ডে প্রশাসনিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছড়িয়ে পড়া অডিওটির কণ্ঠ সত্যই কার, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ কাজ করছে-তা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অডিও ভাইরাল হওয়া এবং প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ প্রসঙ্গে আশরাফুল আমিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি