চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু চেরাগি মোড়। প্রতিদিন হাজারো মানুষের আনাগোনা, আড্ডা আর পেটপূজার স্থান। কিন্তু এই জমজমাট চত্বরের আড়ালে যে কী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকিয়ে ছিল, তা হাতেনাতে উন্মোচন করল জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সোমবার দুপুরে চেরাগি মোড়ের পরিচিত ‘চেরাগি রেস্তোরাঁ’য় ঝটিকা অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে উদঘাটিত হয় রেস্তোরাঁটির রান্নাঘরের অবিশ্বাস্য শোচনীয় দৃশ্য।
অভিযানকারী দল রান্নাঘরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। চর্বি আর ময়লার আস্তরণে ঢাকা ছিল চারপাশ।
সবচেয়ে চমকপ্রদ ও ভীতিকর দৃশ্য ছিল রান্নাঘরের কোণায় কোণায় নানা আকারের তেলাপোকার অবাধ বিচরণ। শুধু তাই নয়, সরকারি নিয়ম-নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছিল অস্বাস্থ্যকর খোলা লবণ।
অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ জানান, এই রেস্তোরাঁটিকে সোজা পথে আনার চেষ্টা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তিন-তিনবার জরিমানা করে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু প্রশাসনিক কোনো তোয়াক্কাই করেনি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। বারবার সতর্ক করার পরও বদলায়নি তাদের কাজের ধরন।
গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ফয়েজ উল্যাহ বলেন, মানুষের পেটে বিষ ঠেলে দেওয়ার মতো এই চরম অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। চেরাগি রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে স্তূপ হয়ে থাকা নোংরা আর তেলাপোকার রাজত্ব দেখে বোঝার উপায় ছিল না এটি মানুষের খাবার তৈরির জায়গা।
আইন অমান্য ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলার অপরাধে চেরাগি রেস্তোরাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে ১ লাখ টাকা নগদ জরিমানা করা হয়।
জরিমানার পাশাপাশি মালিকপক্ষকে আর কখনো এমন অপরাধ না করার এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে রান্নাঘর সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার অঙ্গীকারে মুচলেকা দিতে হয়েছে।
ভোক্তা-অধিকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চাটগাঁইয়া ভোজনরসিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নগরজুড়ে এই ধরনের কড়া তদারকি ও ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

