চাঁদপুরকে চমকে দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু স্বপরিবারে পটিয়ায় গ্রেপ্তার

নিখোঁজ নয়, দেনার চাপে আত্মগোপন

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৩৫

বাজারে প্রচলিত মূল্যের চেয়ে কম টাকায় স্বর্ণ বন্ধক রেখে নগদ অর্থ দেওয়ার চটকদার বিজ্ঞাপন। আর সেই লোভেই একে একে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু গ্রাহক।

কিন্তু পাওনা মিটিয়েও যখন নিজেদের আদরের গহনা ফেরত পাচ্ছিলেন না তারা, ঠিক তখনই খবর ছড়ায়-পরিবারসহ ‘নিখোঁজ’ হয়ে গেছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানান বিভ্রান্তিকর গুঞ্জন।

তবে নিখোঁজের এই সাজানো নাটকের রহস্য উদঘাটন করে চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে পরিবারসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোররাতে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ তাকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কালামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় এই অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-প্রতারণায় অভিযুক্ত পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি দাস এবং তাদের দুই সন্তান প্রিয়ম দাস ও রূপম দাস। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক পরিবারটিকে চাঁদপুরে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে।

যেভাবে পাতেন প্রতারণার জাল
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের ব্যস্ততম কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে একটি স্বর্ণের দোকান পরিচালনা করতেন পিন্টু দাস।

সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলতে তিনি বাজারমূল্যের চেয়ে কম সুদে ও সুবিধাজনক শর্তে স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে নগদ অর্থ দিতেন। তবে বিপত্তি ঘটে যখন গ্রাহকেরা ঋণের টাকা ফেরত দিয়ে নিজেদের স্বর্ণ ফেরত চান।

পিন্টু দাস একের পর এক অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। অন্যদিকে বিভিন্ন সমিতি ও ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ঋণের চাপ বাড়তে থাকলে শেষমেশ গ্রাহকদের শত শত ভরি স্বর্ণ বগলদাবা করে রাতের আঁধারে পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।

ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ ও মামলার পাহাড়
পিন্টুর এই চতুর পলায়নে মাথায় হাত পড়েছে বহু সাধারণ মানুষের। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান জানান, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে মাত্র ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পাওনা টাকা শোধ করার পরও পিন্টু তাকে ঘুরিয়ে শেষমেশ সপরিবারে চম্পট দেন। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ২৪ আগস্ট চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন রাসেল।

একইভাবে জাহিদুল ইসলাম নামের এক গ্রাহক ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণালংকার খুইয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

‘নিখোঁজ’ নয়, দেনার দায়ে আত্মগোপন
শুরুতে ফেসবুকে পরিবারটি নিখোঁজ বলে প্রচার করা হলেও বিষয়টি প্রথম থেকেই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল পুলিশ।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান, পিন্টু দাস কোনো অপহরণের শিকার হননি বা নিখোঁজ হননি, বরং কোটি টাকার দেনা ও স্বর্ণ আত্মসাতের দায়ে তিনি সপরিবারে আত্মগোপন করেছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো জিডি না করায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

অবশেষে পুলিশের সফল অভিযানে পিন্টু দাসের এই নিখোঁজ নাটকের জাঁকজমকপূর্ণ যবনিকাপাত ঘটল।

এখন দেখার বিষয়, প্রতারিত গ্রাহকেরা তাদের রক্তঘামে অর্জিত স্বর্ণালংকার শেষ পর্যন্ত ফেরত পান কি না।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি