সিকিউরিটি এড়াতে অভিনব কৌশল: অন্তর্বাসে মিলল ৩ কোটি টাকার স্বর্ণ

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৩৬

কাস্টমস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তীক্ষ্ণ চোখ এড়িয়ে পার পাওয়ার সমস্ত ছক কষাই ছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেড় কেজি স্বর্ণের পেস্ট ও গয়নাসহ কাস্টমস গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়েছেন মোহাম্মদ তুসার (৩৩) নামের এক যাত্রী।

সোমবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুবাই থেকে আসা ‘BG-148’ নম্বর ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছান ওই যাত্রী।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ওই যাত্রী স্বর্ণের একটি বড় চালান নিয়ে আসছেন-এমন গোপন সংবাদ আগে থেকেই ছিল কর্মকর্তাদের কাছে।

তিনি বিমান থেকে নামার পরপরই তাকে কঠোর নজরদারিতে রাখেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) সদস্যরা।

এই বিশেষ নজরদারি অভিযানে তাদের সাথে যোগ দেয় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের একটি সমন্বিত টিম।

অন্তর্বাসে পেস্ট করা স্বর্ণের গোপন কৌশল কাস্টমস হলে নিয়ে গিয়ে তুসারকে তল্লাশি শুরু করলে বেরিয়ে আসে জালিয়াতির এক অভিনব চিত্র।

বিমানবন্দরের মেটাল ডিটেক্টর ও নিরাপত্তা স্ক্যানারকে ফাঁকি দিতে স্বর্ণকে বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পেস্টে রূপান্তর করা হয়েছিল। এরপর সেই পেস্ট শরীরের সঙ্গে আঁটসাঁট করে লুকিয়ে রাখা হয় তার অন্তর্বাসের ভেতরে।

ডিটেক্টর এড়াতে তৈরি করা প্রায় ১ হাজার ৪০০ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট (প্যাকিং উপকরণসহ) ছাড়াও তল্লাশিতে তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১০০ গ্রাম ওজনের ৫টি স্বর্ণের চুড়ি।

সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ গ্রাম বা দেড় কেজি, যা ২৪ ক্যারেটের বলে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।

জব্দ করা হলো যা যা অভিযানকালে স্বর্ণের পাশাপাশি অভিযুক্ত যাত্রী তুসারের পাসপোর্ট, ব্যবহৃত একটি রেডমি স্মার্টফোন এবং বোর্ডিং পাস বাজেয়াপ্ত করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে একটি চক্র কৌশলে স্বর্ণ চোরাচালানের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে আগাম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত এই অভিযান চালিয়ে তা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।

আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩ সহ দেশের প্রচলিত অন্যান্য আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

বিমানবন্দরকেন্দ্রিক যেকোনো ধরনের চোরাচালান ও অপরাধ প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সমন্বিত ও আকস্মিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি