ভ্যাট সমন্বয়ের পরই বড় ছাড়, দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমল

নতুন দর ঘোষণা বাজুসের

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬ ১০:৪৫

দেশের স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের মূল্যহ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয়ের পর এবার প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে স্বর্ণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। নতুন এ মূল্য একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দামের ধারাবাহিক ওঠানামার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকায়।

এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

উল্লেখ্য, এর ঠিক একদিন আগেই, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা ভ্যাট যুক্ত করা হয়।

ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।

একই সময়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা। ওই মূল্যও কার্যকর হয়েছিল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে।

চলতি বছরে স্বর্ণের বাজারে মূল্য সমন্বয়ের হারও নজরকাড়া। এ নিয়ে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ৭৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

এর মধ্যে ৩৯ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৩৭ দফা কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালেও স্বর্ণের বাজার ছিল বেশ অস্থির। ওই বছরে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি করা হয়, আর ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।

স্বর্ণের দামে এ ধরনের ঘনঘন পরিবর্তন বাজারের গতিশীলতাকেই তুলে ধরে। তবে সর্বশেষ এই মূল্যহ্রাসে স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনায় থাকা ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে স্বর্ণের দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা কতটা স্থায়ী হয়।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি