রাঙ্গুনিয়ায় ১৭ অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ, আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

পাহাড়-কৃষিজমি রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কড়া পদক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২৮

পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ইট প্রস্তুত করার অপরাধে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৭টি ইটভাটার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

একই সঙ্গে এসব ভাটায় আগুন না দেওয়া, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার না করা এবং কৃষিজমির ওপরের উর্বর মাটি (টপসয়েল) কেটে ইট তৈরিতে ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দিনব্যাপী এক বিশেষ অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে মালিকদের হাতে এই বন্ধের নোটিশ তুলে দেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন, পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল ও পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় এসব ইটভাটার যাবতীয় কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সামনে শুরু হতে যাওয়া ইট পোড়ানোর চলতি মৌসুমে নোটিশপ্রাপ্ত কোনো ভাটায় আগুন জ্বালানো কিংবা অন্য কোনো প্রস্তুতিমূলক কাজও করা যাবে না।

বন্ধের নোটিশ পাওয়া ইটভাটাগুলো
ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মঘাইছড়ি এলাকার মেসার্স মক্কা মদিনা ব্রিক্স (MMB), মেসার্স শাহ আমানত ব্রিকস (SAB-1), মেসার্স আবদুল করিম ব্রিকস (KBM); ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেসার্স সাদেক শাহ ব্রিকস (SSB-1), মেসার্স চট্টগ্রাম ব্রিকস (CBM), ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেসার্স খাজা ব্রিকস অ্যান্ড ম্যানু. (KBM), মেসার্স বিসমিল্লাহ ব্রিকস (BBM-3), মেসার্স বিসমিল্লাহ খাজা আজমির ব্রিকস (BKB) এবং আল মদিনা ব্রিকস (AMB)।

এ ছাড়া রাজানগর ইউনিয়নের মধ্য ঘাগড়ার ত্রিপুরা সুন্দরী দিঘি এলাকার দরবার অ্যান্ড কোং (D&C), ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাজার গেট এলাকার মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস (KBM), ১ নম্বর ওয়ার্ডের বহড়াতল এলাকার মেসার্স বাগদাদ ম্যানু. ব্রিকস (BMB), উত্তর ঘাগড়া এলাকার হাজী আতর আলী ব্রিকস (HAB) এবং রাজানগর ১ নম্বর ওয়ার্ডের তারাবুনিয়া এলাকার মেসার্স আজমির ব্রিকস (MAB), মেসার্স কর্ণফুলী ব্রিকস ম্যানু. (KBM), মেসার্স কে এম ব্রিকস (305) ও মেসার্স হোসাইনুজ্জামান শাহ ব্রিকস (SYB)।

পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০), ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং পরিবেশ আদালত আইন ২০১০ অনুযায়ী অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন (মামলা নং ৯১৫৩/২০২০)-এর নির্দেশনার আলোকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিয়মিত মামলা দায়ের, ইট-কাঠ ও মাটিসহ যাবতীয় সরঞ্জাম জব্দ এবং প্রয়োজনে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, আইনি নিয়ম ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো অবস্থাতেই ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ নেই।

নোটিশপ্রাপ্ত কোনো ভাটায় যেন টপসয়েল বা কাঠ পোড়ানো না হয়, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সতর্ক করা হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করে কেউ গোপনে ভাটা চালানোর চেষ্টা করলে মালামাল জব্দসহ উচ্ছেদ অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি