চন্দনাইশের বটতলে তিশা প্লাটিনার ধাক্কায় ক্ষতবিক্ষত সিএনজি, নিভে গেল দুই জীবন

বাড়ি ফেরা হলো না মোরসালিন ও গফুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১১

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওপর আরও দুটি তাজা প্রাণ পিষে গেল বেপরোয়া গতির নিচে। একটি মুহূর্তের অসাবধানতা, বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি ধাক্কা-আর তাতেই মুহূর্তের মধ্যে লাল হয়ে গেল রাজপথ।

শনিবার বিকেল চারটার দিকে চন্দনাইশ শাহ সুফি মাজার গেটের বটতল এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুজন, আর হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন চালকসহ আরও তিনজন।

হঠাৎ এক বিকট শব্দ, তারপর শুধুই আর্তনাদ: বিকেল তখন চারটা। কক্সবাজারগামী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দূরপাল্লার বাস ‘তিশা প্লাটিনা’ ছুটে চলছিল তার চেনা গতিতে। বিপরীত দিক থেকে পটিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে আসছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

শাহ সুফি মাজার গেটের কাছে পৌঁছাতেই দুই বাহনের মুখোমুখি বিকট ধাক্কা লাগে। মুহূর্তের মধ্যে মুচড়ে-মচড়ে যায় ছোট অটোরিকশাটি। ভেতরের যাত্রীদের কান কান্না ও রক্তে ভেসে যায় চারপাশ।

ঝরে গেল দুটি তাজা প্রাণ: দুর্ঘটনার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই নিভে যায় তরুণ তোফায়েল মো. মোরসালিনের (২২) জীবনের প্রদীপ। তিনি লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা। অন্যদিকে, হাসপাতালে নেওয়ার পথে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন চন্দনাইশের বাসিন্দা আবদুর গফুর (৫৫)। এক লহমায় দুটি পরিবারের আলো চিরতরে নিভে গেল।

মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনজন: এ ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন সানজিদা আক্তার সুমাইয়া (২১), আরিফ (৪০) এবং অটোরিকশাচালক সাইমুন হোসেন (২০)।

স্থানীয়রা তৎক্ষণাৎ আহতদের উদ্ধার করে চন্দনাইশের বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দোহাজারী হাইওয়ে থানার এসআই আবদুস ছাত্তার জানান, খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহন দুটি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বারবার ঘটে চলা এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যেন এক অন্তহীন শোকের মিছিল।

চালকদের বেপরোয়া গতি আর বেসামাল ড্রাইভিংয়ের মাশুল আর কত দিন পথচারী ও সাধারণ যাত্রীদের রক্তের বিনিময়ে দিতে হবে, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি