প্রতিদিনের মতোই বাড়ির উঠানে খেলাধুলায় মেতে ছিল ৭ বছরের ছোট্ট মো. ইয়াছিন আরহাম রামীম। কিন্তু কে জানত, সেই চেনা উঠানই একমুহূর্তে রূপ নেবে মৃত্যুর বিষাক্ত ট্র্যাজেডিতে!
চোখের পলকে একঝাঁক ভিমরুলের হঠাৎ আক্রমণ থমকে দিল একটি নিষ্পাপ প্রাণ, আর প্রবাসে থাকা এক বাবার বুকে নেমে এল পাহাড়সম শোক।
ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকার বহরম পাড়ায়।
স্থানীয় ইউছুপ তালুকদার বাড়ির প্রবাসী খোরশেদ আলমের ছেলে রামীম বহরমপাড়া আজিজিয়া মাদ্রাসার নূরানি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (০২ আগস্ট) বিকেলে বাড়ির উঠানে খেলা করার সময় আকস্মিকভাবে একঝাঁক বিষাক্ত ভিমরুল রামীমকে ছেঁকে ধরে আক্রমণ করে।
মুহূর্তের মধ্যে তার আর্তচিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে প্রথমে দ্রুত বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তবে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ওই দিন দিবাগত গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে অবোধ শিশুটি।
রামীমের প্রতিবেশী চাচা মো. কুতুব উদ্দিন হাসান বিষাদগ্রস্ত কণ্ঠে বলেন, ভিমরুলের আক্রমণের পরপরই আমরা ওকে বাঁচানোর জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটেছি।
কিন্তু বিষের তীব্রতা ও শারীরিক জটিলতা এতটাই বেশি ছিল যে শেষ পর্যন্ত তাকে ফেরানো সম্ভব হলো না।
রামীমের বাবা প্রবাসে রয়েছেন, সন্তানের এমন বিদায়ের খবর পেয়ে তিনি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি দেশে পৌঁছানোর পরই জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হবে।
যে শিশুটি কয়েক ঘণ্টা আগেও বাড়ির উঠান মাতিয়ে রাখত, মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য বই-খাতা গুছিয়ে রাখত, তার এই অকাল বিদায়ে পুরো বহরম পাড়ায় এখন নিস্তব্ধতা।
স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের কান্নায় সাতবাড়িয়ার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
সবাই এখন প্রবাস থেকে বাবার ফেরার অপেক্ষায়-যে বাবা দেশে ফিরছেন ছেলেকে বুকে জড়াতে নয়, বরং নিজ হাতে শেষ বিদায় জানাতে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

