বাংলাদেশের লাখো পরিবারের নিত্যদিনের রান্নাঘরে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরছে। এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় কমানো হলো বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম।
এবার এক লাফে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমেছে ৩৫৭ টাকা।
ফলে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যের চাপ সামলানো ভোক্তাদের জন্য এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় মূল্যহ্রাসগুলোর একটি।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বৃহস্পতিবার নতুন মূল্য ঘোষণা করে।
কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, ১২ কেজির বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা, যা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। নতুন দরে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা।
আগের দামের তুলনায় প্রতি লিটারে কমেছে ১৬ টাকা ৫৩ পয়সা।
বিইআরসি জানিয়েছে, জুলাই মাসের জন্য সৌদি আরামকোর ঘোষিত কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুসারে আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
এবার প্রোপেনের সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৫৮০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের ৬০০ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। ৩৫:৬৫ অনুপাতে দুই গ্যাসের গড় সিপি দাঁড়িয়েছে ৫৯৩ মার্কিন ডলার।
মূল্য নির্ধারণে প্রতি মেট্রিক টনে ১৮০ মার্কিন ডলার জাহাজ ভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৮ পয়সা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার প্রভাবই এবার দেশের বাজারে সবচেয়ে বড় মূল্য সমন্বয়ের পথ তৈরি করেছে।
কোন সিলিন্ডারের দাম কত
নতুন ঘোষণায় প্রতি কেজি বোতলজাত এলপিজির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা।
সে অনুযায়ী—
- ১২.৫ কেজি: ১ হাজার ৫৯১ টাকা
- ১৫ কেজি: ১ হাজার ৯১০ টাকা
- ১৬ কেজি: ২ হাজার ৩৭ টাকা
- ১৮ কেজি: ২ হাজার ২৯১ টাকা
- ২০ কেজি: ২ হাজার ৫৪৬ টাকা
- ২২ কেজি: ২ হাজার ৮০১ টাকা
- ২৫ কেজি: ৩ হাজার ১৮৩ টাকা
- ৩০ কেজি: ৩ হাজার ৮১৯ টাকা
- ৩৩ কেজি: ৪ হাজার ২০১ টাকা
- ৩৫ কেজি: ৪ হাজার ৪৫৬ টাকা
- ৪৫ কেজি: ৫ হাজার ৭২৯ টাকা
এ ছাড়া রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা এবং গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি ঘনমিটার ২৭৪ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন।
বিইআরসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কমিশন নির্ধারিত দামের বেশি মূল্যে বোতলজাত এলপিজি, রেটিকুলেটেড এলপিজি কিংবা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না। অর্থাৎ ঘোষিত মূল্যই হবে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য।
তবে সরকারি এলপিজির দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ১২.৫ কেজির সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য আগের মতোই ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা বহাল থাকবে।
এক মাসে দুই দফা কমল দাম
এর আগে গত ২ জুন বিইআরসি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল।
একই সময়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা করা হয়।
নতুন ঘোষণার ফলে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আরও ৩৫৭ টাকা কমল। অর্থাৎ জুনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই সিলিন্ডারের দাম মোট কমেছে ৪১২ টাকা।
দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামলানো পরিবারগুলোর জন্য এই মূল্যহ্রাস তাৎক্ষণিক স্বস্তির বার্তা হলেও, বাস্তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
কারণ অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কমিশনের ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে।
ফলে নতুন দামের পূর্ণ সুফল ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে হলে বাজার তদারকি ও মূল্য বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

