২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের মধ্য দিয়ে।
বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই পাবলিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই সারাদেশে ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে।
তবে একই সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় ইতিবাচক একটি চিত্রও সামনে এসেছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ১ হাজার ৩৪০ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলেও অসদুপায়ের দায়ে কোনো পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রথম দিনের পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ছিলেন ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থী।
তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২ দশমিক ০১ শতাংশ।
বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিতির হিসাব বলছে, ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৯৭১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।
এরপর রয়েছে রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৬৭ জন, যশোর বোর্ডে ২ হাজার ৭৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ১ হাজার ৭৯৫ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ হাজার ৯৩৭ জন, বরিশাল বোর্ডে ১ হাজার ৩৪৬ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ হাজার ৩৪০ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ হাজার ১৮২ জন এবং সিলেট বোর্ডে ১ হাজার ১২৭ জন।
পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডে ১ জন, যশোর বোর্ডে ২ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ জন রয়েছেন। তবে কোনো পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়নি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চট্টগ্রাম বোর্ডে প্রথম দিনের পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি।
সমমানের পরীক্ষাগুলোর চিত্রেও অনুপস্থিতির প্রভাব দেখা গেছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজিদ পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন পরীক্ষার্থী।
সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং অসদুপায়ের দায়ে ১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন পরীক্ষার্থী।
এ বোর্ডে অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন। এছাড়া অসদুপায়ের দায়ে ১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি—তিন ধারার শিক্ষা বোর্ডে প্রথম দিনের পরীক্ষায় মোট ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
একই সময়ে অসদুপায়ের অভিযোগে মোট ৭ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।
দেশের অভ্যন্তরের পাশাপাশি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিদেশেও ৮টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের বাইরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করেছে।
এ বছর সারাদেশে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬০টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
প্রথম দিনের সামগ্রিক চিত্রে একদিকে যেমন কয়েক হাজার পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া এবং চট্টগ্রাম বোর্ডে বহিষ্কারের কোনো ঘটনা না ঘটার বিষয়টি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগামী পরীক্ষাগুলোও একই ধরনের সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

