কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে বন্ধ সড়ক, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত: ঝুঁকিতে ৫০০ পরিবার

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫৫

টানা বর্ষণের তীব্রতায় সকালে আকস্মিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বালুচরা এলাকায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ওপর ধসে পড়েছে পাহাড়ের এক বিশাল অংশ।

মাটির সঙ্গে উপড়ে পড়েছে একটি বিশাল গাছ। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই স্তব্ধ হয়ে গেছে কাপ্তাইয়ের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহও।

সোমবার রাত থেকেই কাপ্তাইজুড়ে নামছিল অবিশ্রাম বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির তোড়েই ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বালুচরা এলাকায় পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে হুড়মুড় করে ধসে পড়ে মূল সড়কের ওপর।

গাছ উপড়ে সড়কটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় রাস্তার দুপাশে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন ও সাধারণ মানুষ।

তবে স্বস্তির বিষয়, এই আকস্মিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সরোয়ার জানান, ধসের খবর পাওয়ামাত্রই দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়েছে।

ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী, কাপ্তাই বিউবো স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক নুরুল কবির করিমী বলেন, “হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের মাটি ও গাছ ধসে পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। চোখের পলকে পুরো এলাকা থমকে দাঁড়ায়।”

খবর পেয়েই কালক্ষেপণ না করে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় গাছ কাটার ও মাটি সরানোর কাজ।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ, পিডিবি এবং স্থানীয় জনতা যৌথভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সড়কটি দ্রুত সচল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে সড়কের এই বিপর্যয়ের সমান্তরালে কাপ্তাইয়ের আকাশে মেঘ জমতেই উৎকণ্ঠা বাড়ছে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী মানুষের মনে।

টানা বৃষ্টিতে কাপ্তাই নতুন বাজারের ঢাকাইয়া কলোনিতে পাহাড়ের পাদদেশে চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় ৫০০টি পরিবার।

যেকোনো মুহূর্তে বড় কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কায় প্রশাসন ও স্থানীয়দের মনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে আজ দ্রুত ঘটনাস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে যান কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম।

তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন।

প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করেন।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম জানান, মানুষের জীবন রক্ষাই এখন তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ইতিমধ্যে মোট ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে আসা দুর্গত মানুষদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য, পানীয়সহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ও সহায়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।”

টানা বৃষ্টির কারণে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড় ধস, বসতভিটার আংশিক ক্ষতি এবং চরম জনদুর্ভোগের খবর আসছে।

স্থানীয় প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো মূল্যে প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার ও আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি